শিরোনাম

  আগামী ১৮ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা, থাকছে না এমসিকিউ   অবশেষে তিন মাস পর জামিন পেলেন আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম   নির্বাচনী এলাকায় ৭-১০ দিন আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে : নির্বাচন কমিশন   মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়ার ভয়ে তালিকাভুক্ত সব রোহিঙ্গা পালিয়ে গেল   ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৯, নিখোঁজ ১৩০   রাঙ্গামাটি থেকে বুদ্ধগয়ার যাওয়ার উদ্দেশ্যে তীর্থযাত্রীর বাস দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত   পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া দুই যুবক ‘শনাক্ত’   পুলিশকে ধন্যবাদ দিলেন প্রধানমন্ত্রী   বলিউডের স্টার দীপিকা-রণবীরের বিয়ে সম্পন্ন   এবার থেকে সরকারী চাকরিজীবীর স্ত্রী মারা গেলে আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী   ৩ বছরের কারাদণ্ড ডেসটিনির চেয়ারম্যানের   দীঘিনালায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক ঊষা আলো চাকমাকে অপহরণ   হামলা করে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে সরকার : ফখরুল   নির্বাচন বানচাল করতে পুলিশের ওপর হামলা করেছে বিএনপি : কাদের   স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন ইমরান এইচ সরকার   খালেদার দু’টি আসন পাচ্ছেন দুই পুত্রবধূ!   আগামীকাল থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে পাঠানো হবে, যেতে চায়না রোহিঙ্গারা   চলে গেলেন স্পাইডারম্যান-আয়রনম্যান লেখক   অনৈতিক কাজে জড়িত কক্সবাজার এসিল্যান্ড নাজিম উদ্দিনকে রাঙামাটিতে বদলি   এবার এরশাদের জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন হিরো আলম
প্রচ্ছদ / ফিচার / বিশ্বের প্রথম ‘আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয়’

বিশ্বের প্রথম ‘আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয়’

প্রকাশিত: ২০১৭-১১-২২ ১১:৫৬:৪১

   আপডেট: ২০১৮-০৪-৩০ ২২:১৮:০০

অদ্বয় দত্ত - ডেইলি সিএইচটি

ভারতে ভুবনেশ্বর, ওড়িশায় বিশ্বের প্রথম ‘আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয়’ মানব-সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের তরফে কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস (KISS) হিসেবে খ্যাত প্রতিষ্ঠানের এর প্রতিষ্ঠাতা অচ্যুত সামন্ত।

এখানে শুধু আদিবাসী সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ। ২৫ হাজারের উপরে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে হোস্টেল। অচ্যুত সামন্ত আদিবাসী সম্প্রদায়ের দুর্বিষহ জীবনকে স্বাভাবিক করতে মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা, পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণকে।

একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কন্যাশিশু হত্যা বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় কিসের মাধ্যমে। 'কিস' শুরু হয়েছিল মাত্র ১২৫ জন আদিবাসী ছেলে-মেয়েদের দিয়ে। স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিত্সা পাঁচটি মৌলিক অধিকারই এখানে একযোগে দেয়া হয়। পড়ালেখা করানো হয় কেজি (কিন্ডার গার্টেন) থেকে পিজি (পোস্ট গ্রাজুয়েশন)। এর সবকিছুই করা হয় বিনামূল্যে। বর্তমানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৫ হাজারের উপর আদিবাসী বিভিন্ন সম্প্রদায় অধ্যয়নরত রয়েছেন।

ভারতের সংবাদ মাধ্যম 'দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া' জানায় সারা বিশ্বে আর কোথাও একসঙ্গে ২৫ হাজারের উপরে আদিবাসী সন্তানদের খাওয়া, থাকা, লেখাপড়ার ব্যবস্থা, সব বিনা খরচে আর কোথাও নেই। সেখানে তিনি আদিবাসীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন,বৈষম্যমূলক থেকে রক্ষা  ও শিক্ষামূলক সচেতনতা বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন উদ্যোগ খুব আন্তরিকতার সাথে পালন করছেন।

এর জন্য যে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন তা আসে কোথা থেকে? ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যাল কলেজ চালিয়ে যথেষ্ট উপার্জন হয় তো বটেই, সেই উপার্জন ব্যয়িত হয় আদিবাসী কল্যাণে। অথচ এই আদিবাসীদের অনেকের বাসস্থান ও জীবন নষ্ট হয়ে পড়ছিল নানা কারণে। শিল্পকারখানা স্থাপন, খনিখনন, অরণ্যধ্বংসের কারণে তাদের বাসস্থান হয়ে আসছিল সঙ্কুচিত।

এ কারণে প্রথাগত জীবন পরিচালনার জন্য যা যা প্রকৃতি থেকে পাওয়া যেতে পারে তা ক্রমশ কমতে শুরু করে। প্রায় শূন্য যোগাযোগব্যবস্থা, দারিদ্র্য, অপুষ্টি, অশিক্ষা আর অন্ধবিশ্বাসের প্রকোপে তাদের অবস্থা আরও সঙ্গিন হতে থাকে। ভাগ্যপরিবর্তনের জন্য কেউ কেউ বিপদগামী হয়ে মাওবাদীদের দলে ভিড়েছিল, স্বপ্নে বিভোর ছিল সশস্ত্র বিপ্লবের। অচ্যুত সামন্তকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে সেই সব আদিবাসী ছেলে মেয়ে, যারা সুযোগ পেয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাদের ‘মানব জনম’ তথা মেধা’র আবাদ করলে তারাও ফলাতে পারে ‘সোনা’। আদিবাসীদের আবাসস্থলে কয়লা থেকে নানা খনিজ পদার্থের খনি রয়েছে, পুজিবাদীদের নজর সেদিকে।

কিন্তু আদিবাসীদের মস্তিষ্কও যে ঠিকমতো আবাদ করলে সেখান থেকে যে সোনা ফলতে পারে, তা-র আবিষ্কর্তা অচ্যুত সামন্ত। বনফুল যে মনভোলানী সুগন্ধী বিতরণ করতে পারে, তার সৌন্দর্য যে ছাপিয়ে যেতে পারে নন্দনকাননের সুপরিচর্যিত যেকোনো ফুলকেও, তারই উন্মোচন ঘটিয়েছেন অচ্যুত সামন্ত। তিনি বুঝেছিলেন, শিক্ষাদীক্ষায় যে ‘মানুষ’ তৈরি করা হয় তারাই তো তৈরি করেন ‘সভ্যতা’। ব্যবস্থাপনার এক বিস্ময়কর মস্তিষ্ক রয়েছে তাঁর। নয়তো কি করে সম্ভব এমন বিশাল সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার? তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে কনিষ্ঠ আচার্য। ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকেননি। জীবিত থাকতেই দেখতে চেয়েছেন তার অবর্তমানে অন্যের নেতৃত্বে কীভাবে পরিচালিত হয়ে তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত প্রতিষ্ঠান। এ সব কিছুই তাঁর ‘আর্ট অব গিভিং’- প্রতিদানের শিল্প।