শিরোনাম

  ভুটানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা   খাগড়াছড়িতে সেটেলার কর্তৃক পাহাড়ী নারীকে ধর্ষণ চেষ্ঠা   গুলো-গুলি || আলোময় চাকমা   বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা   মহালছড়িতে আবার ৩ গ্রামবাসীকে অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা   আজ খালেদা জিয়ার জন্মদিন!   বাঙালির শোকের দিন আজ   বঙ্গবন্ধুর শোক দিবসে ২১০টি গরু জবাই দিয়ে কাঙালি ভোজ আয়োজন !   পিসিপি ২৬ তম কাউন্সিল ও ছাত্র সম্মেলন সম্পন্ন , নিপন ত্রিপুরাকে সভাপতি ও অমর শান্তি চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক   পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন : অর্থনৈতিক না রাজনৈতিক সমস্যা ?   খাগড়াছড়িতে ৪ গ্রামবাসীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে   শান্তি চুক্তির পর পাহাড়ে যে উন্নয়ন হয়েছে তা টেলিটক থেকে মেসেজ করে আমরা পৌঁছে দেব : তারানা হালিম   এবার বিশ্বের মধ্যে খারাপ শহরের তালিকায় ২য় স্থানের নাম লিখেছে ঢাকা , বাংলাদেশ   জিয়াউর রহমানই পাহাড়ে সমতল থেকে মানুষ নিয়ে অশান্তির বীজ বপন করেছিল   সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন-বোনাস পাচ্ছেন বৃহস্পতিবার   নেপালকে ৩-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে মারিয়া মান্দার দল বাংলাদেশ   দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার আর নেই   শহিদুলের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন নোবেলজয়ী স্টিগলিজসহ ১৩ বরেণ্য ব্যক্তিত্ব   খাগড়াছড়িতে ৪ গ্রামবাসীকে অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা   রিমান্ড শেষে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অভিনেত্রী নওশাবা
প্রচ্ছদ / খোলাকলাম / নিজেদের আদিবাসীর দাবিতে রাঙ্গামাটিতে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে সেটেলার বাঙ্গালি সংগঠনগুলো

নিজেদের আদিবাসীর দাবিতে রাঙ্গামাটিতে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে সেটেলার বাঙ্গালি সংগঠনগুলো

"আগামী ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসকে সামনে রেখে"

প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-০৪ ১৩:১০:২৮

   আপডেট: ২০১৮-০৮-০৪ ১৫:০২:০৫

বিশেষ প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটেলার বাঙ্গালি সংগঠনের দাবি বাংলাদেশে কোন আদিবাসী ছিলনা। এ যাবত আদিবাসী বলে রাষ্ট্র কোন প্রচার করেনি। এসব জনগোষ্ঠি অর্ধেক থেকে আদিবাসী বলে দাবি করছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সেটেলার বাঙ্গালি সংগঠনগুলোর দাবি আদিবাসী বলতে শুধু বাঙ্গালিদের বুজায়। কারণ এদেশে শুধু বাঙালি ছাড়া কেউ আদি বাসিন্দা নয়।

এ কারণে আদিবাসী অধিকার বলতে যাদের বুজানো হয়েছে সেই অধিকার পার্বত্য বাঙ্গালিদের পাওয়ার যোগ্য।

এসব দাবিতে ও বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নাই এমন দাবিতে ৩ আগস্ট আদিবাসী দিবস বিরোধী লিফলেট প্রচার করেছে পার্বত্য সেটেলার বাঙ্গালির বেশ কিছু সংগঠন।

শুক্রবার বিকেলে সংগঠনটির জেলা সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে শহরের অন্যতম প্রধান বানিজ্যিক কেন্দ্র বনরূপা বাজারের বিপনী বিতানগুলোতে ব্যবসায়ি ও ক্রেতাসাধারণের মাঝে আদিবাসী বিরোধী লিফলেত প্রচার করা হয়েছে।

প্রচারের মধ্যে রয়েছেন- পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের জেলা প্রচার সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মোমিন, জেলার ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকা হালিমা আক্তার মোহনা, রাঙমাটি জেলা যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আব্দুল মান্নান, সরকারি কলেজ সাংগঠনিক সম্পাদক জোনায়েদ হোসাইন, রবিউল ইসলাম, ঝরনা আক্তারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

লিফলেট অনুযায়ী যেসব দাবিতে তারা প্রচার চালিয়েছেন সেগুলো হল:হুবহু- (১) উপজাতীয়রা নয়, বাঙ্গালীরাই পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী। (২) উপজাতীয়দের আদিবাসী স্বীকৃতি প্রদান করলে পার্বত্য চট্রগ্রাম আলাদা রাষ্ট্রে পরিণত হবে। (৩) পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিয়ে পৃথক রাষ্ট্র গঠনের পাঁয়তারা করুন।

(৪) পার্বত্য চট্টগ্রামকে পূর্ব তিমুর বা দক্ষিণ সুদান বানানোর ষড়যন্ত্র রুখে দিন। (৫) উপজাতী এবং বাঙ্গালীদের বিভাজন কল্পিত আদিবাসী ইস্যু সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করুন।

(৬) আদিবাসী ইস্যুতে তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদদের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান কেন? দেশপ্রেমিক নাগরিকগণ জানতে চায়। (৭)পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কমিশন বাতিল করুন। (৮) পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিয়ে দেশী-বিদেশী সংস্থার ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করার এখনই সময়। )

এদিকে, আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটি থেকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই আদিবাসী নেতা বলেন, বিশ্বের ৯০টি দেশের প্রায় ৪০ কোটির অধিক আদিবাসীর মতো বাংলাদেশে বসবাসকারী ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ আদিবাসী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

জাতিসংঘ মনে করেন যাদেরকে প্রকৃত আদিবাসী বলা হবে তাঁদের প্রতিটি জনগোষ্ঠির বা জাতির অবশ্যই আলাদা আলাদা ভাষা, সংস্কৃতি, কালচার ইত্যাদি থাকতে হবে তা না হলে আদিবাসী বলে গণ্য হবে না।

এতে এও বলা আছে, রাষ্ট্রের কোন এক বৃহৎ ভাষাভাষীরা আদিবাসী নয়। কারণ তাঁদের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যের গুণ নেয়।

১৯৯৫ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত "আন্তর্জাতিক বিশ্ব আদিবাসী জনগোষ্ঠী দশক" ঘোষণা করা হয় যার উদ্দেশ্য ছিল আদিবাসীদের উদ্বেগের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া। এছাড়া ১৯৯৫ সালের ৯ আগস্টকে "বিশ্ব আদিবাসী দিবস" ঘোষণা করা হয়। জাতিসংঘ ১৯৮২ সালে সর্বপ্রথম আদিবাসীদের স্বীকৃতি দেয়।

এতে বিশ্বের ৯০টি দেশের প্রায় ৪০ কোটির অধিক আদিবাসীর মতো বাংলাদেশের আদিবাসীদের ও জাতিসংঘ অন্তর্ভুক্ত করে।

জাতিসংঘের তথ্য মতে, সাধারণত কোন একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অণুপ্রবেশকারী বা দখলদার জনগোষ্ঠীর আগমনের পূর্বে যারা বসবাস করতএবং এখনও করে; যাদের নিজস্ব আলাদা সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ রয়েছে; যারা নিজেদের আলাদা সামষ্টিক সমাজ-সংস্কৃতির অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যারা সমাজে সংখ্যালঘু হিসেবে পরিগণিত, তারাই আদিবাসী। আদিবাসীদের উপজাতি হিসেবে সম্বোধন করা একেবারেই অণুচিত, কারণ তারা কোন জাতির অংশ নয় যে তাদের উপজাতি বলা যাবে। বরং তারা নিজেরাই এক একটি আলাদা জাতি।

আদিবাসী অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক ঘোষণাপত্র, বিশ্ব আদিবাসী দশক (প্রথম দশক ১৯৯৬-২০০৪ এবং দ্বিতীয় দশক ২০০৫-২০১৪), জাতিসংঘের আদিবাসী অধিকার সনদ, আদিবাসীদের অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কনভেনশন ১০৭ (১৯৫৭) ও ১৬৯ (১৯৮৯), এবং বাংলাদেশের আদিবাসীদের সাংবিধানিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ও বঞ্ছনার কথা বলা আছে।

এর আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে আদিবাসী দিবসে বাণী দিয়েছিলেন। সেই বাণীতে তিনি বলেছিলেন, জাতিসংঘ ঘোষিত আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর সরকার তাঁর এই বাণী বা ঘোষণার বাস্তবায়ন না করে আদিবাসীদের “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী”বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আদিবাসীদের আশাছিল বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার সংখ্যালঘুদের কথা চিন্তা করে এ বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু সে বাস্তবায়ন তো দূরের কথা আদিবাসী জনগোষ্ঠি আজ দেশান্তরের পথে।


শুধু তাই নয় রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসী দিবস পালন করেছিল বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার আওয়ামী লীগ। কিন্তু দুঃখের বিষয় পরবর্তীতে আদিবাসীদের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করা শুরু করে তখন থেকে অনেকে দিবসটি পালন করতে যায়না। কিন্তু যারা এখনো সচেতন, যারা এদেশের সাক্ষী তারাই দিবসটি উদযাপন করতে প্রতিবছর আদিবাসীদের সাথে আদিবাসী দিবস উদযাপন করতে সমবেত হয়।

সেটেলার বাঙ্গালি সংগঠনদের উদ্দেশ্য: তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি চাইনা, এ চুক্তি তারা মানেনা। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ইচ্ছায় করা এই চুক্তিকে তারা কালো চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে।

একটা কথা বলা বাহুল্য, পার্বত্য চট্টগ্রামে যেসব বাঙালি সংগঠনগুলো পাহাড়ীদের বিরুদ্ধে অবস্থানে রয়েছে। এদের ৯৫ ভাগ বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত সংগঠন। কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের তালে তালে শুধু হাত নাড়াচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সেটেলার বাঙ্গালি সংগঠনগুলোর দাবি আদিবাসী বলতে শুধু বাঙ্গালিদের বুজায়। কারণ এদেশে শুধু বাঙালি ছাড়া কেউ আদি বাসিন্দা নয়। এ হিসেবে মনে রাখা উচিত তারা কি কখনো জাতিসংঘের কাছে আদিবাসী বলে গণ্য হয়েছে। বা জাতিসংঘ কি তাঁদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে?

এসব সংগঠনদের মনে রাখা উচিত আদিবাসী বলতে শুধু দেশের বাসিন্দা হলে চলবে না। এজন্য আদিবাসী হওয়ার মত যোগ্য থাকতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে যেসব বাঙালি রয়েছে তারা সবাই একই ভাষা ব্যবহার করে কথা বলে। তাঁদের মায়ের ভাষা বাংলা। আরা পাহাড়ীদের রয়েছে নিজস্ব আলাদা সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ । যা সম্পূর্ণ এদের থেকে আলাদা সে কারণে জাতিসংঘ তাঁদের আদিবাসী হিসেবে লিখিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

কিন্তু বর্তমানে সেটেলার বাঙ্গালিদের সজ্ঞান থাকা উচিত আদো তারা কি জাতি সঙ্ঘের কাছে আদিবাসী হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে কিনা।

পার্বত্য বাঙালি সংগঠনদের আদিবাসী বলে যে দাবি করছে এক জরিপে দেখা গেছে ২-৩ বছর হচ্ছে তারা আদিবাসী হিসেবে পাহাড়ে পরিচিতি লাভ করার পায়দা চালাচ্ছে।

তাঁদের কাছে একটা প্রশ্ন আপনারা জাতিসংঘের কাছে যান- আর আবেদন করেন আমরা বাঙ্গালিরাই পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী, উপজাতিরা নয়। এতে যদি জাতিসংঘ মনে করে আপনারা সত্যিই আদিবাসী তাহলে বাঙ্গালাদেশের আদিবাসীরা আর কখনো বলবে না তারাই আদিবাসী।

এজন্য আপনাদের একটা মূল্যবান সুযোগ দেওয়া হলো।

আদিবাসী দিবস কি জন্য পালন করবে বাংলাদেশের আদিবাসীরা?

জাতিসংঘের স্বীকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশের সমতল ও পাহাড়ি আদিবাসীদের পালন করার অধিকার রয়েছে। যদিও বাংলাদেশে পরবর্তীতে সংবিধান পরিবর্তন করে আদিবাসীদের “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী”বলে আখ্যায়িত করেছে যাতে আদিবাসী দিবস পালন করতে না পারে।

কিন্তু জাতিসংঘ এখনো সেই লিখিত পদক্ষেপ ভঙ্গ করেনি। এখনো বাংলাদেশের আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে রেখেছে।

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরো খবর



আলোচিত