শিরোনাম

  ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য মাতৃভাষায় পুস্তক প্রকাশনার বিধান রেখে খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা   সরকারী চাকরিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা না হলেও সমস্যা হবে না   রুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু   দুই আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি   দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ হতে পারে   আদিবাসী মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মীদের সম্মেলন ২০১৮ উদযাপন   ব্লগার বাচ্চু হত্যার সঙ্গে ‘জড়িত’ ২ জঙ্গি নিহত   জুমের বাম্পার ফলনে রাঙ্গামাটির চাষিদের মুখে হাসি   সরকারি চাকরিতে আদিবাসী কোটা বহাল দাবি জানাল আদিবাসীরা   আয়ারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশের এক মন্ত্রী দ্বারা হেনস্ত হওয়াতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিন্দা   শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে   মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত   শহীদ আলফ্রেড সরেন হত্যার ১৮ বছর: হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জাতীয় আদিবাসী পরিষদের   ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা   সরকারী চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মারা গেছেন   ঈদের ছুটি কাটানো হলোনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নিরীহ ধীরাজ চাকমার   খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনার জন্য জেএসএস(সংস্কারবাদী) ও নব্য মুখোশ বাহিনীকে দায়ী করেছে : ইউপিডিএফ   নানিয়ারচর থেকে খাগড়াছড়ি   খাগড়াছড়িতে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা !
প্রচ্ছদ / খোলাকলাম / পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়িদের নতুন আতঙ্কের নাম, পাহাড়িরা 'বার্মাইয়া' : রুমা দেওয়ান

পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়িদের নতুন আতঙ্কের নাম, পাহাড়িরা 'বার্মাইয়া' : রুমা দেওয়ান

প্রকাশিত: ২০১৮-০১-১৫ ১৮:১৯:১৬

   আপডেট: ২০১৮-০১-১৫ ১৮:৫৬:৫৭

পাহাড়ি নারী, ফাইল ছবি - ডেইলি স্টার।

রুমা দেওয়ান

পার্বত্য শান্তি চুক্তি করা হয়েছিল পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ি বাঙালি মিলেমিশে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে। এখানে কারোর অধিকার উপেক্ষা করে ১৯৯৭ সালে ২ ডিসেম্বর শান্তি চুক্তি করা হয়নি।চুক্তিটি উভয় পক্ষের প্রাসঙ্গিক বলে তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন।

২০১৭ সালের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, চুক্তি বাস্তবায়নে ও পাহাড়ের উন্নয়নসহ মানুষের প্রতি তিনি খুব আন্তরিক। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী মহোদয় বলেছেন ২০১৮ সালের মধ্যে পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে।সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বলেছেন, শান্তি চুক্তির বাকি শর্ত অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে।

শান্তি চুক্তি করার মূল উদ্দেশ্য ছিল পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনা। সেই লক্ষ্যে সরকার এবং জেএসএসের মধ্যে দ্বিপার্শ্বিক বোঝাপড়া ভিত্তিতে চুক্তিটি করা হয়েছিল।  সম্প্রতি চুক্তির ২০ বছর পূর্ণ হলো। কিন্তু এখনো চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নি হয়নি বলে জেএসএসের(জন সংহতি সমিতির) অভিযোগ । চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন , “চুক্তির ৭২টি শর্তের মধ্যে ৪৮টি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে। ১৫টি আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে এবং বাকি নয়টিও বাস্তবায়ন হবে।”চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় ২০১৬ সালে আইন সংশোধন করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা বলেছেন, দুই দশকেও পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন হয় নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় জুম্ম জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাদের আর পেছনে যাওয়ার কোন রাস্তা নেই।

ফলশ্রুতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের যে কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির জন্য সরকারই দায়ী থাকবে বলেও তিনি দৃঢ় কন্ঠে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন”চুক্তির মৌলিক বিষয়সমূহের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ বিষয়ই অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়ে গেছে। অথচ ২০০৯ সালে সরকার গঠনের মাধ্যমে চুক্তির প্রতিটি ধারা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে বলে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিল। কিন্ত দুঃখের বিষয় হলেও সত্য বিগত ৯ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন থাকা সত্ত্বেও বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার চুক্তির মৌলিক বিষয়সমূহ বাস্তবায়নে কোন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ফলে স্থাপিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ পূর্বের মতো “শান্তি চুক্তির শর্তানুযায়ী চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৮টি ধারা সম্পূর্ণ, ১৫টি ধারা আংশিক এবং অবশিষ্ট ৯টি ধারার বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান আছে” বলে মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। ৭২টি ধারার মধ্যে মাত্র ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং এখনো দুই-তৃতীয়াংশ ধারা অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়নের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে জনসংহতি সমিতির সভাপতির পক্ষ থেকে গত ১ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যেসব বিষয় বাস্তবায়িত হয়নি তার বিবরণ” সম্বলিত ১৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন এবং তৎসঙ্গে সহায়ক দলিল হিসেবে ১৬টি পরিশিষ্ট সংযুক্ত করে প্রধানমন্ত্রীর নিকট জমা দেয়া হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন বিষয়ে গোয়েবলসীয় কায়দায় অব্যাহতভাবে অসত্য তথ্য প্রদান করে চলেছে বলে এমনই অভিযোগ তাঁর।

এদিকে, পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি জনগণদের "বার্মাইয়া" বলে যেখানে সেখানে হেনস্হা করা হচ্ছে বলে অনেকে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভার্সিটি - কলেজে পড়ুয়া জুম্ম শিক্ষার্থীদের "বার্মাইয়া"বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। অনেকে অভিযোগ করেছেন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুকে পুঁজি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা হিসেবে “বার্মাইয়া” শব্দটি জুড়ে সমতলের কিছু উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্টি তাঁদের বেকায়দায় হেনস্থা করছে। এর আগেও এই রকম ঘটনার জন্য চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার এবং নাট্য নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের "বার্মাইয়া" বলে হেনস্থা করলে সাথে সাথে রুখে দাঁড়ান বলে ফেসবুকে মন্তব্য করেন।

শুধু তাই নয়। ইদানিং পার্বত্য অঞ্চলে অনেক শিক্ষিত ব্যাক্তিরাও পাহাড়িদের দেখলে “বার্মাইয়া” বলে সম্বোধন করে। তারা মনে করছেন পাহাড়ীরা এদেশের নাগরিক নয়। তারা “বার্মা” থেকে অবৈধভাবে এ দেশে এসেছে। তাদের সাথে সরকারের আবার কিসের চুক্তি-মুক্তি! পার্বত্য অঞ্চলে কিছু বাঙালি ‘রিফিউজি’ শান্তি চুক্তি চায়না। তারা মনে করেন শান্তি চুক্তি করা হয়েছিল শুধু পাহাড়িদের সুযোগ – সুবিধার জন্য। অথচ চুক্তিতে স্পষ্ট লেখা আছে, বাঙালিদেরকে যথাযথ ও সম্মানজনকভাবে চুক্তি অনুযায়ী এক জায়গায় সরিয়ে পুনর্বাসন করা। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী এর আগে বলেছেন শান্তি চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়িত হলে সব পক্ষই জয়ী হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী বাঙালিরা তাঁদের জমির ওপর আইনগত অধিকার হারাবে না।

এদিকে, চুক্তির ২০ বছর পূর্ণ হলেও এখনো চুক্তির প্রধান ধারাগুলো অবাস্তবায়িত রয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাহাড়ি নেতাদের। পার্বত্য শান্তি চুক্তির অধিকাংশ ধারা পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হয়েছে অথবা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে প্রতিবছর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি বলেছেন আমাদের সরকার শান্তিচুক্তির আলোকে এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, অবকাঠামো, মোবাইল নেটওয়ার্কসহ সকলখাতের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমরা রাঙ্গামাটিতে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি ইত্যাদি। যা অধিকাংশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাথে পার্বত্য শান্তি চুক্তির ঘটমান বিষয়সমুহকে উন্নয়নের প্রভাব দেখিয়ে সরকার বদ্ধপরিকর বলে দাবি করা হচ্ছে।

"তবে জনসংহতি সমিতির নেতারা মনে করছেন পার্বত্য সমস্যা একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়। এটি একটি রাজনৈতিক ও জাতীয় সমস্যা"কারণ শান্তি চুক্তি মোতাবেক- রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের লক্ষ্যে শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং শান্তি বাহিনীর পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা সন্তু লারমা। তবে চুক্তি অনুযায়ী কতটুকু বাস্তবায়ন বা সেসব অত্যাবশ্যক তথা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ সমাধান হয়েছে তা এখন সংশ্লিষ্ট চুক্তির পক্ষে সম্পাদনকারীদের মধ্যে প্রশ্নাতীত। কারণ নেতাদের দাবি অনুযায়ী মৌলিক বিষয়গুলোর উপর বাস্তবায়নের প্রতি সরকার এখনো গুরুত্ব দেইনি। বরং সেসব মুখ্য সমস্যাগুলো পাশ কাটিয়ে উন্নয়নের ধারাগুলো জনমুখে জাহির করে যাচ্ছে বলে জনসংহতি সমিতির অভিযোগ।

জনসংহতি সমিতি(জেএসএস) মনে করে চট্টগ্রাম সমস্যা হচ্ছে একটি রাজনৈতিক ও জাতীয় সমস্যা। এখানে অর্থনৈতিক সমস্যা হিসেবে শুধু উন্নয়ন ধারাগুলো অব্যাহত রাখলে পার্বত্য সমস্যা স্থায়ীভাবে সমস্যা হবেনা। বরং আরো সরকার আর জুম্মগণের মাঝে আন্তরিকতা হ্রাস পাবে। কারণ জনগণ চায় চুক্তি অনুযায়ী চুক্তির অবাস্তবায়িত বিষয়সমূহ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের যথোপযুক্ত আন্তরিক ও উদ্যোগ । আজ চুক্তির ২ দশক অতিক্রান্ত হয়েছে তবুও জুম্মজনগণের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।

এছাড়া পাহাড়ে যেহেতু কিছু “রিফিউজি” বাঙালি চুক্তি বাস্তবায়নে বিরোধিতা করে আসছে সেই হিসেবে চুক্তিকে দামাচাপা দিতে পাহাড়িদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উস্কানি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে পাহাড়িদের।

সম্প্রতি পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমাকে সম্মানীয় এমপি ফিরোজা বেগম চিনু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরম হেনস্থা করেছে বলেও জনসংহতি সমিতির সদস্যরা অভিযোগ করেছেন। জানা যায়, “সন্তুবাবু রাঙ্গামাটির ভোটার না। রাঙ্গামাটি থেকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হোক। প্রশাসন ব্যবস্থা নিন না হলে ভাল হবেনা।” “কোথাকার কোন নাগরিক জানিনা। ইত্যাদি লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেছেন।

তবে জনসংহতি সমিতির সদস্যরা এমপি চিনুকে সে পাহাড়ের স্থায়ী বাসিন্দা? কিনা প্রশ্ন করা হয়েছিল। জবাবে চিনু বলেছিলেন, আমি রাঙ্গামাটির স্থায়ী বাসিন্দা। আমার জন্মের অনেক আগে থেকেই রাঙামাটিতে আমার পরিবার।তবে সন্তু লারমা এদেশের নাগরিক নয় বলে মন্তব্য করেন এমপি।

এদিকে, ১৪ জানুয়ারী রোববার খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইসমাইল বলেছেন, পাহাড়িরা এখনও মনে করে, এই অঞ্চল, এই জায়গাটা তাদের। তারা কিন্তু এই কথাটা একেবারে ভুলে গেছে যে, ৩০০ বছর আগে বার্মা থেকে পিটন খেয়ে এই দেশে চলে এসেছিল।

তবে তিনি আরো এইও বলেন, (পার্বত্য চট্টগ্রাম) যথাযথ থাকার জায়গা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুলিশ বা আর্মি দিয়ে নয়, পাহাড়িদের দিয়েই করতে হবে।

এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পাহাড়ি কিছু সংশ্লিষ্ট জনগণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা বলছেন পাহাড়িরা ‘বার্মা’ লোক হোক বা বিদেশী লোক হোক তবে কেন সরকার নেতাদের সাথে শান্তি চুক্তি করেছিলেন। শান্তি চুক্তিতে কি লেখা ছিল পাহাড়িরা “বার্মা” বলে আখ্যায়িত হবে ? তবে কেন পাহাড়ে অশিক্ষিত ব্যক্তিদের পাশাপাশি শিক্ষিত নাগরিকরাও সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করছেন?

কিছু দিন আগে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট না দিতে। এজন্য তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন । তিনি বলেছেন, ঐতিহ্যগতভাবে রাঙ্গামাটিতে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের জনগণ দীর্ঘদিন যাবৎ পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করছেন।

সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ব্যক্তি,সংগঠন,সম্প্রদায় অন্য ব্যক্তি,সংগঠন,সম্প্রদায় সম্পর্কে নেতিবাচক, কটাক্ষপূর্ণ ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে উস্কানিমূলক পোস্ট মন্তব্য করছেন। সবাইকে দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মহৎ সিদ্ধান্ত। তবে ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে শিক্ষিত ব্যাক্তিরা ও পাহাড়িদের ঘৃণার চোখে দেখছে। তা না হলে পাহাড়িদের “বার্মায়া” বলে কেন আখ্যায়িত করে যাচ্ছেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে- পাহাড়ি জনগোষ্ঠিদের “বার্মায়া” বা বার্মা থেকে এসেছে ইত্যাদি মন্তব্য করলে কি চুক্তি বাতিল করা যাবে? এভাবে সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করলে কি পাহাড়ি বাঙালি কখনো মিলেমিশে থাকা সম্ভব? ভুলে গেলে চলবে না যে, শান্তি চুক্তি মোতাবেক চুক্তিতে লেখা আছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১নং ধারায় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলকে উপজাতি বা আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে এই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করা। এখানে সরকার চুক্তিতে কোন" বার্মাইয়া" অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে চুক্তি সম্পাদন করেননি।

 

প্রকাশিত মতামত ও প্রতিবেদন লেখকের একান্তই নিজস্ব। ডেইলি সিএইচটি - এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে।

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরো খবর



আলোচিত