শিরোনাম

  বেসরকারি ইক্যুইটি আসছে ভুটানে   কক্সবাজারে হিন্দু সম্প্রদায়ের একই পরিবারের চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার   ঢাকা সিটিতে নির্বাচন না হলে পেছাবে না এসএসসি পরীক্ষা   কুমিল্লায় উদ্ধার করা হলো ৩শ’ বছর পুরোনো মূল্যবান বৌদ্ধ মন্দির সদৃশ নকশা   নিউজিল্যান্ডের নতুন চমক বেন হুইলার   রাখাইনে সহিংসতার পর শত শত স্কুল বন্ধ   চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি পেলেন প্রণব মুখার্জি   রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র বানাচ্ছে মিয়ানমার   ২ বছরের মধ্যে রোহিঙ্গারা ফিরে যাবে, রূপরেখা চূড়ান্ত   আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারী ঢাকাতে ' কাচালং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি'র' এক যুগপূর্তি উপলক্ষ্যে জুম্মদের পুনর্মিলনী ও বনভোজন   আদিবাসী নারীদের মধ্যে প্রথম পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করলেন রূপানন্দা   ১০ বছর পর বেনজির ভুট্টোর হত্যার দায় স্বীকার করেছে তালেবান   আজ চবিতে যাচ্ছেন প্রণব মুখার্জি   মানুষের মনের ও চিন্তার দূষণ দূর করতে হবে : প্রণব মুখার্জি   ২ এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু   বড় মহাপূরম উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত   জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের   পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়িদের নতুন আতঙ্কের নাম, পাহাড়িরা 'বার্মাইয়া' : রুমা দেওয়ান   বাগদাদে ভয়াবহ দুই আত্মঘাতী বোমায় নিহত ২৬, আহত ৯০   ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ স্থগিত
প্রচ্ছদ / খোলাকলাম / ত্রাণের উপর ঘুমাচ্ছে রোহিঙ্গারা , শীতে কেমন আসে লংগদুর পাহাড়িরা?

ত্রাণের উপর ঘুমাচ্ছে রোহিঙ্গারা , শীতে কেমন আসে লংগদুর পাহাড়িরা?

প্রকাশিত: ২০১৭-১২-১২ ২১:১১:০৬

   আপডেট: ২০১৭-১২-১২ ২১:১৮:১৩

সারোয়ার হোসেন, রাঙ্গামাটি থেকে

ত্রাণের উপর ঘুমাচ্ছে রোহিঙ্গারা। এরপরও প্রতিদিন পাচ্ছে কারও না কারও সহযোগিতা। এসব রাখার জায়গা হচ্ছে না। এরপরও থেমে নেই ‘অভাবি জাহির করা’ হাত টানা। এভাবে নেয়া অতিরিক্ত ত্রাণ হাটে-বাজারে মহল্লায় বিক্রি করে দিয়ে জমাচ্ছে নগদ টাকা।এমন সব অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।তবে, রোহিঙ্গাদের মাঝে কি পরিমাণ ত্রাণ মজুদ রয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কোথাও। কিন্তু ধারণা নিতে জরিপ চালাচ্ছে রোহিঙ্গা সংশ্লিষ্টরা। -জাগো নিউজ।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গারা ত্রাণ সংগ্রহের পর সেগুলো বিক্রি করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।-বাংলা ট্রিবিউন।

মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ঝুপড়ি ঘরে জায়গা নেই, ঘর ভর্তি ত্রাণ। তাই এসব ত্রাণ বিক্রি করে দিচ্ছে রোহিঙ্গারা। প্রতিদিন রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিক্রির ফলে স্থানীয়রা কম দামে নিত্যপণ্য পাচ্ছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক ব্যবসা বেড়েছে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের। আবার অনেকে এসব ত্রাণ কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করছে। রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ এসব ত্রাণ গ্রামে গ্রামে গিয়ে বিক্রি করছে।-অনলাইন।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা ছাড়িয়ে কৌশলে পাচার হচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রদেয় ত্রাণ সামগ্রী। ফলে ত্রাণ সয়লাব হয়ে ওঠেছে উখিয়া -টেকনাফের বাজার!  চাল, ডাল, তেল, চিনি থেকে শুরু করে ত্রাণের পণ্য এখন পুরো বাজারে। প্রতি কেজি চাল বিশ টাকা। ডব্লিউএফপির তিন কেজি ডালের মূল্য ত্রিশ টাকা। ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে শীতের কম্বল।- কক্সবাজার নিউজ।

এছাড়াও অসংখ্য গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের আর ত্রাণের অভাব নেই। এমনকি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এখন শুধুমাত্র তাঁদের মিয়ানমারে ফিরে নিয়ে প্রত্যাবাসন করার দায়িত্ব। আর সেটির কাজ ও তাড়াতাড়ি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এদিকে লংগদুতে সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হওয়া শত শত পাহাড়ি পরিবার সরকারের কাছ থেকে কিছু আর্থিক সাহায্য পেলে ও তাঁদের পর্যাপ্ত পরিমানে ক্ষতিগ্রস্থরা সেবা পাচ্ছেনা। যদিও প্রসাশন আশ্বাস দিয়েছেন তাঁদের সাহায্য করবে। কিন্তু তাতে ও দেখা গেল পরিবার চালাতে অনেকে এখনো হিমশিম খাচ্ছে। তাঁদের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সেই হিসেবে তাঁদের সেরে উঠতে কমপক্ষে আরও ১০ থেকে ১২ বছর লাগতে পারে।

এই শীতে প্রয়োজনীয় গরম-উষ্ণ কাপড় চোপড় তাঁদের পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে অবশ্যই তারা শীতে কষ্ট পাবে। প্রশাসন আরো যথাযথ ব্যবস্থা ও সরিজমিনে পরিদর্শন করে তাঁদের সরকারী বা বেসরকারী বা যেকোন সংস্থা থেকে সাহায্য করা যেত। শীতের কথা চিন্তা করে সম্প্রতি কিছু পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইভেন্ট খুলে লংগদু ক্ষতিগ্রস্থদের শীত বস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে।

আসুন মানবতার সেবাই তাঁদের পাশে এসে দাঁড়াই। রোঙ্গিরা যেভাবে হামলার শিকার হয়েছিল সেটা খুব অন্যায়। আর এখানে রোহিঙ্গারা মুসলিম বলে তাদের বেশী সহযোগিতা করব সেটা নয়। এখানে মানবাধিকার লংঘন উভয় পাশে করা হয়েছিল। সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে সবাই সেটা আশা করে।  

উল্লেখ্য, চলতি বছর গত ২ জুন রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় পাহাড়িদের বসতবাড়িতে হামলার ঘটনায় ২১৩টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি লাশ পাওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে সাম্প্রদায়িক হামলা ঘটে। সেদিন খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের চার মাইলের যৌথ খামার এলাকা থেকে রাঙামাটির লংগদু উপজেলা সদর ইউনিয়ন শাখা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভাড়ায়চালিত মোটরবাইক চালক নুরুল ইসলাম নয়নের লাশ উদ্ধার হয়।

ওই দিন তিনি মোটরসাইকেলে যাত্রী নিয়ে লংগদু থেকে খাগড়াছড়ি যান। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাঙালিরা পাহাড়িদের দায়ী করেন। পরদিন স্থানীয় বাঙালিরা নয়নের লাশ নিয়ে লংগদু সদরে মিছিল বের করলে সেখান থেকে তিনটিলা, পূর্ব ও পশ্চিম মানিকজোড় ছড়া এবং বাত্যাপাড়া গ্রামে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে প্রায় আড়াইশ' ঘরবাড়ি আগুনে পুড়ে যায়। এই হামলায় এক পাহাড়ি নারীকে ঘরের ভিতর নির্মমভাবে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

যা এই ঘটনায় ৬ কোটি ৬১ লাখ ৮৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা অভিযোগ করেছিলেন, পাহাড়ি গ্রামে হামলায় স্থানীয় প্রশাসনের সায় ছিল। স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) অন্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা সেখানে উপস্থিত থাকলেও তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নেননি। তবে প্রশাসন তা অস্বীকার করেছে।

পরে লংগদুর তিন গ্রামের পুড়ে যাওয়া ঘরে ধংসস্তুপ দেখতে গেলে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমসহ ১৪ দলের নেতারা। ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তারা।

তবে জেলা পরিষদ গুণবালা চাকমার মেয়ে কালা সোনা চাকমা ও যুবলীগ নেতা মোটরবাইক চালক মো. নুরুল ইসলাম নয়নের স্ত্রী জাহেরা বেগমের হাতে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা। তবে আশা করা যাচ্ছে সরকার তাদের কথা বিবেচনা করে আরো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরো খবর




আলোচিত