শিরোনাম

  টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগের পর চার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন   আগামী ২৪ ডিসেম্বর জেএসসি ও প্রাথমিক সমাপনীর ফল প্রকাশ   নির্বাচনকালীন ইউএনও-ডিসির স্বাক্ষরে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা : শিক্ষা মন্ত্রণালয়   খালেদার মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের বিভক্ত আদেশ   'তিন পার্বত্য জেলায় ৩৮ টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে'   সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান ইউরোপীয় দেশগুলোর   তরুণ ও নারী ভোটাররাই আওয়ামী লীগের বিজয়ের প্রধান হাতিয়ারঃ কাদের   গত ৫ বছরে জেএসএস এমপি উন্নয়ন করতে পারেনি, যা করেছে আওয়ামীলীগ করেছে : দিপংকর তালুকদার   এখন থেকে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক   'বান্দরবানে বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই'   'নির্বাচনী প্রচারণায় রঙিন পোস্টার বা ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না'   ৫৮টি নিউজ পোর্টাল খুলে দিয়েছে বিটিআরসি   বুধবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী   বিএনপি ক্ষমতায় এলে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করার চেষ্ঠা করবো: মনি স্বপন দেওয়ান   তিন পাহাড়ে নৌকা নিয়ে মাঠে দৌড়াবেন যারা   আগামীকাল খালেদা জিয়ার অগ্নিপরীক্ষা   হিরোকে জিরো বানানো এত সহজ নয়, সফল হিরো আলমের চ্যালেঞ্জ   খাগড়াছড়িতে বনের রাজা পেয়েছেন ইউপিডিএফের প্রার্থী নতুন কুমার চাকমা   বিশ্বের প্রথম উঁচু ভাস্কর্য 'চীনের স্প্রিং টেম্পল বুদ্ধ'   আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস || আদিবাসীদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার অাহ্বান
প্রচ্ছদ / চট্টগ্রাম / পাহাড়ে সেটেলাররা আদিবাসী দিবস বিরোধী, তবে প্রকৃত আদিবাসী বলে দাবি

পাহাড়ে সেটেলাররা আদিবাসী দিবস বিরোধী, তবে প্রকৃত আদিবাসী বলে দাবি

প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-০৮ ২৩:০৮:৪০

   আপডেট: ২০১৮-০৮-০৮ ২৩:১৬:০৭

অনিক বড়ুয়া , রাঙ্গামাটি

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটেলার বাঙ্গালি সংগঠনের দাবি বাংলাদেশে কোন আদিবাসী ছিলনা। এ যাবত আদিবাসী বলে রাষ্ট্র কোন প্রচার করেনি। এসব জনগোষ্ঠি অর্ধেক থেকে আদিবাসী বলে দাবি করছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সেটেলার বাঙ্গালি সংগঠনগুলোর দাবি আদিবাসী বলতে শুধু বাঙ্গালিদের বুজায়। কারণ এদেশে শুধু বাঙালি ছাড়া কেউ আদি বাসিন্দা নয়।

এ কারণে আদিবাসী অধিকার বলতে যাদের বুজানো হয়েছে সেই অধিকার পার্বত্য বাঙ্গালিদের পাওয়ার যোগ্য।

এসব দাবিতে ও বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নাই এমন দাবিতে ৩ আগস্ট থেকে রাংগামাটি সহ বেশ কিছু স্থানে আদিবাসী দিবস বিরোধী লিফলেট প্রচার করেছে পার্বত্য সেটেলার বাঙ্গালির বেশ কিছু সংগঠন।

এছাড়া বুধবার(৮ জুলাই) বৃহত্তর পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক দোকান ও বিপণি বিতানে লিফলেট বিতরণ করা হয়।

লিফলেট বিতরণকালে বলা হয়, বাঙ্গালীরাই  প্রকৃত আদিবাসী, উপজাতিরা নয়। এজন্য সবাইকে এক সাথে প্রচার করতে হবে যাতে উপজাতিরা আদিবাসী দাবি করতে না পারে। শুধু তাই নয়, আদিবাসী দিবস উপলক্ষে কোন প্রকার মিছিল মিটিং করলে তা শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারী দেওয়া হয়।

লিফলেট বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন, বৃহত্তর পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের দীঘিনালা উপজেলা সভাপতি আল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মুনসুর আলম, জেষ্ঠ্য নেতা হুমায়ুন আহমেদ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

লিফলেট অনুযায়ী যেসব দাবিতে তারা প্রচার চালিয়েছেন সেগুলো হল:হুবহু- (১) উপজাতীয়রা নয়, বাঙ্গালীরাই পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী। (২) উপজাতীয়দের আদিবাসী স্বীকৃতি প্রদান করলে পার্বত্য চট্রগ্রাম আলাদা রাষ্ট্রে পরিণত হবে। (৩) পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিয়ে পৃথক রাষ্ট্র গঠনের পাঁয়তারা করুন।

(৪) পার্বত্য চট্টগ্রামকে পূর্ব তিমুর বা দক্ষিণ সুদান বানানোর ষড়যন্ত্র রুখে দিন। (৫) উপজাতী এবং বাঙ্গালীদের বিভাজন কল্পিত আদিবাসী ইস্যু সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করুন।

(৬) আদিবাসী ইস্যুতে তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদদের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান কেন? দেশপ্রেমিক নাগরিকগণ জানতে চায়। (৭)পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কমিশন বাতিল করুন। (৮) পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিয়ে দেশী-বিদেশী সংস্থার ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করার এখনই সময়। )

জাতিসংঘ মনে করেন যাদেরকে প্রকৃত আদিবাসী বলা হবে তাঁদের প্রতিটি জনগোষ্ঠির বা জাতির অবশ্যই আলাদা আলাদা ভাষা, সংস্কৃতি, কালচার ইত্যাদি থাকতে হবে তা না হলে আদিবাসী বলে গণ্য হবে না।

এতে এও বলা আছে, রাষ্ট্রের কোন এক বৃহৎ ভাষাভাষীরা আদিবাসী নয়। কারণ তাঁদের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যের গুণ নেয়।

১৯৯৫ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত "আন্তর্জাতিক বিশ্ব আদিবাসী জনগোষ্ঠী দশক" ঘোষণা করা হয় যার উদ্দেশ্য ছিল আদিবাসীদের উদ্বেগের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া। এছাড়া ১৯৯৫ সালের ৯ আগস্টকে
"বিশ্ব আদিবাসী দিবস" ঘোষণা করা হয়। জাতিসংঘ ১৯৮২ সালে সর্বপ্রথম আদিবাসীদের স্বীকৃতি দেয়।

এতে বিশ্বের ৯০টি দেশের প্রায় ৪০ কোটির অধিক আদিবাসীর মতো বাংলাদেশের আদিবাসীদের ও জাতিসংঘ অন্তর্ভুক্ত করে।

জাতিসংঘের তথ্য মতে, সাধারণত কোন একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অণুপ্রবেশকারী বা দখলদার জনগোষ্ঠীর আগমনের পূর্বে যারা বসবাস করতএবং এখনও করে; যাদের নিজস্ব আলাদা সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ রয়েছে; যারা নিজেদের আলাদা সামষ্টিক সমাজ-সংস্কৃতির অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যারা সমাজে সংখ্যালঘু হিসেবে পরিগণিত, তারাই আদিবাসী। আদিবাসীদের উপজাতি হিসেবে সম্বোধন করা একেবারেই অণুচিত, কারণ তারা কোন জাতির অংশ নয় যে তাদের উপজাতি বলা যাবে। বরং তারা নিজেরাই এক একটি আলাদা জাতি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সেটেলার বাঙ্গালি সংগঠনগুলোর দাবি আদিবাসী বলতে শুধু বাঙ্গালিদের বুজায়। কারণ এদেশে শুধু বাঙালি ছাড়া কেউ আদি বাসিন্দা নয়। এ হিসেবে মনে রাখা উচিত তারা কি কখনো জাতিসংঘের কাছে আদিবাসী বলে গণ্য হয়েছে। বা জাতিসংঘ কি তাঁদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে?

তাঁরা নিজেদেরকে খাঁটি আদিবাসী দাবি করলে তাঁরা আদিবাসী দিবস বিরোধী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়িতে আদিবাসী দিবস উদযাপন করলে হামলাও করতে পারে।

আদিবাসী দিবস কি জন্য পালন করবে বাংলাদেশের আদিবাসীরা?

জাতিসংঘের স্বীকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশের সমতল ও পাহাড়ি আদিবাসীদের পালন করার অধিকার রয়েছে। যদিও বাংলাদেশে পরবর্তীতে সংবিধান পরিবর্তন করে আদিবাসীদের “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী”বলে আখ্যায়িত করেছে যাতে আদিবাসী দিবস পালন করতে না পারে।

কিন্তু জাতিসংঘ এখনো সেই লিখিত পদক্ষেপ ভঙ্গ করেনি। এখনো বাংলাদেশের আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে রেখেছে। এতে এও বলা আছে, রাষ্ট্রের কোন এক বৃহৎ ভাষাভাষীরা আদিবাসী নয়। কারণ তাঁদের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যের গুণ নেয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত