শিরোনাম

  প্রযুক্তি ফাঁদে পড়েছেন রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক   সেনাক্যাম্প কমান্ডার কর্তৃক জনপ্রতিনিধিদের উপর হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনায় জেএসএসের প্রতিবাদ   বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে : প্রধানমন্ত্রী   রোনালদোর গোলে এগিয়ে গেল পর্তুগাল   ইন্দোনেশিয়ায় ফেরি ডুবিতে নিখোঁজ ১৯২   চালু হলো বাইসাইকেল শেয়ারিং সেবা   আলজি দাধাহ || আলোময় চাকমা   বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রতি মেসির ভালোবাসা   জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ত্যাগ যুক্তরাষ্ট্রের   পাহাড় ধস, পাহাড়িরা নয়, দায়ী মূলত সমতল থেকে নিয়ে যাওয়া বাঙালিরা : আবু সাদিক   কবি সুফিয়া কামালের ১০৭তম জন্মবার্ষিকী আজ   মিশরকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিল রাশিয়া   পোল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে মাঠে নাচ দেখাল সেনেগাল   জাতীয় অধ্যাপক হলেন তিন বরেণ্য শিক্ষাবিদ   এক সপ্তাহে পাহাড়ে ৩ জন আঞ্চলিক নেতাকর্মী খুন   অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ১০, নিহত ১   কলম্বিয়ার বিপক্ষে জাপানের জয়   চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় মডেল তিথি বড়ুয়া নিহত   বাংলাদেশ থেকে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজের দেশে ফিরলেন জার্মান তরুণী   খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রধান শিক্ষক দেবদাস চাকমাকে আটক করেছে পুলিশ
প্রচ্ছদ / চট্টগ্রাম / সাঙ্গু বনাঞ্চল থেকে ৩০০ আদিবাসী পরিবারকে সরিয়ে নিয়ে সরকার অন্যত্র পুর্নবাসন করার প্রতিশ্রুতি

সাঙ্গু বনাঞ্চল থেকে ৩০০ আদিবাসী পরিবারকে সরিয়ে নিয়ে সরকার অন্যত্র পুর্নবাসন করার প্রতিশ্রুতি

প্রকাশিত: ২০১৮-০৬-০৭ ২০:০৫:৪৪

তথ্য-সূত্র : পাহাড় বার্তা

ডেস্ক রিপোর্ট

বান্দরবানের থানচি উপজেলার সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে ৩০০ আদিবাসী পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ।

সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে থানচির বড়মদক এলাকার আশে পাশে পুর্নবাসনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে পাহাড় বার্তার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, থানচি বড়মদকের উজানে একটি বিশাল এলাকা সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চল। ওই এলাকায় একমাত্র বসবাস দরিদ্র জুমিয়াদের। থানচি সদর থেকে সেখানে যাওয়ার একমাত্র উপায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা। শুঙ্ক মৌসুমে যেতে ওইসব এলাকায় যেতে সময় লাগে প্রায় দুই দিন। আর বর্ষাকালে সাঙ্গু নদী খরস্রোতা হওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় নৌ যোগাযোগ।

আরো জানা যায়, থানচি সদর থেকে সীমান্তবর্তী লিক্রি দূরত্ব প্রায় ৮৫ কিলোমিটার।সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাশে মুরংঙ্গ্য, ছোট ইয়াংবংপাড়া, বড় ইয়াংবং পাড়া, বুলু পাড়া, লিক্রিপাড়া সহ আরো ৮ থেকে ১০টি গ্রামের বসবাস । সব মিলিয়ে সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চলের উপর নির্ভর শীল প্রায় ১ হাজার ২শত পরিবারের বসবাস । তার মধ্যে ৮ শত পরিবার সংরক্ষিত বানঞ্চলের ভিতরেই জুম চাষ করেন ।

ম্যলেংগ এলাকার উম্যসিং জানান, জঙ্গল কেটে জুম চাষ করি । আর জুম চাষ করে সারা বছরের খাবার সংরক্ষণ করি । উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া যায় না ।

ম্যলেংগ পাড়া এলাকার কার্বারি (গ্রাম প্রধান) থোয়াই চিং মার্মা বলেন, সাঙ্গু বনাঞ্চল থেকে অনেকে গাছ কেটে নিয়েছে । বন ধ্বংস করছে । আগের মতো জীব-জন্তু দেখা যায় না । বনের আশেপাশের লোকজন এই বনাঞ্চলে জুম চাষ ও ফলের বাগান করে খায় ।

সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাড়াগুলো রেমাক্রি ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। রেমাক্রি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা জানান, থানচি সদর থেকে সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চল পর্যন্ত কোন সড়ক যোগাযোগ নেই । নৌ যোগাযোগই একমাত্র মাধ্যম । আর উৎপাদিত ফসল নৌ যোগে থানচি সদরে নিয়ে আসলে বিক্রির চেয়ে ক্ষতি হয় ৫গুণ । তাই সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চলের উপর নির্ভরশীল দুর্গম পাড়াগুলো ।

তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মহাপরিচালক (বর্তমানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব) কবির বিন আনোয়ার এসেছিলেন এই জায়গায় । সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভিতরে চাষাবাদকারী জুমিয়াদের পুর্নবাসনের কথা বলেছেন । পুর্নবাসিতদের তালিকা করে পাঠাতে বলেছেন । এছাড়াও পুর্নবাসিত পরিবারগুলোর জন্য ঘর-বাড়ি, স্কুল, কমিউনিটি ক্লিনিক, বিশুদ্ধ পানীয় জলের সরবরাহ সহ জীবন ধারনের জন্য যা প্রয়োজন তা করে দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন আমাদেরকে ।

মুইশৈথুই মারমা বলেন, এরই মধ্যে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভিতরে জুম চাষকারীদের তালিকা করা হয়েছে । ৩০০ পরিবারকে পুর্নবাসন করার পরিকল্পনা করছে সরকার। আমরা তালিকা তৈরি করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করব। এগুলোর ব্যবস্থা করে তালিকাভুক্তদের বড়মদক এলাকার আশে পাশে পুর্নবাসন করা হবে বলে জানিয়েছেন মহাপরিচালক কবির বিন আনোয়ার ।
লিক্রিপাড়া এলাকার হ্লামংচিং মার্মা বলেন, বনে জুম চাষ করে খায় । পুর্নবাসনে সব সুযোগ সুবিধা থাকলে যাবো । বন ধ্বংস করা ঠিক না জানি । তবে চাষ করে খেয়ে বেঁচে থাকতে তো হবে।

বড় মদক এলাকার ইয়াংবংপাড়া এলাকার ক্যমসাইন বলেন, ঠিকমত পুর্নবাসন করলে তারা যাবে।

যদি পুর্নবাসন করা হয় জুম চাষের উপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর পরবর্তী কর্মসংস্থান কি হতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে ইউপি চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা বলেন, লিক্রি থেকে এক মণ আম নিয়ে গেলে খরচ পড়ে ৫শত টাকা । আর থানচি বাজারে ওই আম বিক্রি করতে হয় মণ প্রতি ৫শত টাকা । তাই এখানাকার পরিবারগুলোকে লং,এলাচি সহ মসলা জাতীয় চাষে উদ্বুদ্ধ করতে হবে । কারন লং এবং এলাচি ১ মণ বিক্রি করলে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পাওয়া যায়, লাভ বেশি । থানচি বাজারে নিয়ে বিক্রি করলেও তাদের ক্ষতি হবে না ।

থানচি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং মার্মা জানান, সাঙ্গু বনাঞ্চল রক্ষা করা না হলে সাঙ্গু নদীকেও রক্ষা করা যাবে না । তালিকাভুক্তদের পুর্নবাসনের পরিকল্পনা করছে সরকার ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত