শিরোনাম

  নৌকার জয় সুনিশ্চিত : প্রধানমন্ত্রী   আজ ইউপিডিএফ’র ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী   এবার থাইল্যান্ডে বৈধ হলো গাঁজা   ইউপিডিএফ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকলকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা জানালেন প্রসিত বিকাশ খীসা   চীনা শিশুরা আর স্কুল পালাতে পারবে না!   আবার ক্ষমতায় গেলে ভুল সংশোধন করা হবে : কাদের   প্রধানমন্ত্রী থেকে মাতৃভাষার বই পেয়েছে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুরা   শুভ বড়দিন আজ   রোহিঙ্গাদের জন্য শীতবস্ত্র পাঠাল ভারত   ইন্দোনেশিয়ায় সুনামির আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০০ অধিক ছাড়িয়েছে   টাকার মালা উপহার পেলেন ফখরুল!   মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী মাঠে সেনাবাহিনী   ভোটের দিন ২৪ ঘণ্টা সব যান চলাচল বন্ধ   সেনা মোতায়েনে ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে: সিইসি   পানছড়িতে ইউপিডিএফের নির্বাচনী অফিসে এলোপাতাড়ি ব্রাশ ফায়ারে ২ জন নিহত!   জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ   আগামী ৩০ তারিখ আমরা নৌকার বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরবো: দীপংকর তালুকদার   ইন্দোনেশিয়ায় সুনামির আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২২ জন   যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদের ভোট দেবেন নাঃ প্রধানমন্ত্রী   ২৮ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত ৪ দিন মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
প্রচ্ছদ / ক্যাম্পাস / রাঙ্গামাটি মোনঘর আবাসিক বিদ্যালয়ের গরীব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা একটু সাপোর্ট ও সুযোগ পাবেনা?

রাঙ্গামাটি মোনঘর আবাসিক বিদ্যালয়ের গরীব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা একটু সাপোর্ট ও সুযোগ পাবেনা?

প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২৭ ২১:৪৩:৫৪

   আপডেট: ২০১৭-১২-২৭ ২১:৪৮:০৯

কৃষ্ণ এম চাকমা

বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়েছিল কয়েদিন আগে,২০১৪ সাল হতে অনেকের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে রাঙ্গামাটি মোনঘর আবাসিক বিদ্যালয়ে নিয়ে ১২ জন গরীব মেধাবী গরীব-মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা সবাই তাদের আপন বাবা-মা,ভাই-বোনদের সাথে কিছুদিন ছুটি পেয়ে কিছু সময় কাটাতে নিজের বাড়িতে চলে গিয়েছিল বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর,বর্তমানে হয়তো নিজের পরিবারের সদস্যদের সাথে তাদের সময় দারুনভাবে কাটাচ্ছে।

মোনঘর আবাসিক বিদ্যালয়ে সকল(জে.এস.সি ও পি.এস.পরীক্ষার্থীদের বাদে) ছাত্র-ছাত্রীদের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল ২৩ ডিসেম্বরে,আমার নিয়ে আসা ১২ জন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে ৮ জনের বার্ষিক পরীক্ষা ফলাফল মোনঘর স্কুলে দেখে এসেছিলাম, সবাই ভালভাবে পাস করে নতুন শ্রেনীতে উত্তীর্ণ হয়ে ভাল ফলাফল উপহার দিয়েছে,তাতে আমি এখন খুবই খুশি অনুভব করছি।

এখন অপেক্ষা করছি ৪ জনের ফলাফল,(জে.এস.সি পরীক্ষার্থী ৩ জন ও পি.এস.পরীক্ষার্থী ১জন)আশা করি এই চারজনও ভালো রেজাল্ট উপহার দিবে সেটাই আশা করছি,

কিন্তু যে ৮ জনের ভাল রেজাল্ট পেয়েছি এবং আরও ৪ জনের ভাল রেজাল্ট পাব তাদের মধ্যে ৪ জনকে নিয়ে খুবই চিন্তায় আছি,কারন ১২ জন গরীব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে ৮ জন ছেলেমেয়েকে ৮ জন মহৎ ব্যক্তি এককভাবে যাবতীয় পড়াশুনার করানোর দায়িত্ব নিয়েছেন (অন্তত এস.এস.সি পর্যন্ত) আর বাকি ৪ জনের (মেয়ে ২জন আরতি চাকমা ১০ শ্রেনীতে উত্তীর্ণ হয়েছে,ববিতা চাকমা ৯ম শ্রেনীতে উত্তীর্ণ হবে,ছেলে ২জন সুপল চাকমা সপ্তম শ্রেনীতে উত্তীর্ণ হয়েছে,সবি চাকমা ৭ম শ্রেনীতে উত্তীর্ণ হয়েছে) নির্দিষ্ট কোন স্পন্সর না থাকায় অনেক সমস্যা সম্মুখীন হয়েছি।

যে ৪জন ছাত্র-ছাত্রী নির্দিষ্ট স্পন্সর নেই তাদের জন্য এই বছর (২০১৭) কেউ ১০ হাজার,১২ হাজার, ১৯ হাজার,কেউ ১৪ হাজার টাকা সহযোগিতা পাঠিয়েছিলেন বলে তারা বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে ভাল রেজাল্ট উপহার দেয়ার সুযোগ পেয়েছিল।

কিন্তু আগামী বছর (২০১৮) কি ভালভাবে পড়াশুনা করে আরও ভাল রেজাল্ট উপহার দেয়ার সুযোগ পাবে?নাকি তারা এই পর্যন্ত পড়াশুনা করে থেমে গিয়ে উজ্জল ভবিষ্যত গড়ার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে?এই দুইটি প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই,কারন আমি নিরুপায়,অন্যের কাছ থেকে সাপোর্ট না পেলে আমারও তেমন বেশি কিছু করার সামর্থ্য আমার নেই,

বর্তমানে তারা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তাদের পরিবারে সাথে কিছুদিন সময় কাটাচ্ছে,তারা চলে আসবে জানুয়ারি ৭ তারিখে,৭ তারিখের আগে যদি তারা কারোর কাছে আর্থিক সাপোর্ট না পাই,তাহলে তাদের মোনঘর আবাসিক বিদ্যালয় থেকে বিদায় নেয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা,

আর এই ৪ জন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা ছাত্র-ছাত্রীদের নামের সাথে আরো নতুন করে যোগ হয়েছে প্রান্তিক এলাকা থেকে ১২ জন গরীব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের নাম (১-জুরন বাবু চাকমা-শ্রেনী-৮ম,২- চিগন বাবু চাকমা-শ্রেনী-৮ম,৩- রিপন চাকমা-শ্রেনী-৯ম,৪- সুজনা চাকমা-শ্রেনী-৮ম,৫- হেমন্ত চাকমা-শ্রেনী-৬ষ্ঠ,৬- দীপন চাকমা-শ্রেনী-৬ষ্ঠ,৭-প্রিয়ন্তী চাকমা-শ্রেনী-৬ষ্ঠ,৮- জগদীশ চাকমা-শ্রেনী-৭ম,৯-স্বর্ণা চাকমা-শ্রেনী-৬ষ্ঠ,১০- আদর্শী চাকমা-শ্রেনী-৭ম,১১-সুজন চাকমা-শ্রেনী-৪র্থ,১২-যতন মনি চাকমা,শ্রেনী-৬ষ্ঠ)

এদের মধ্যে কারোর বাবা নেই,কারোর মা নেই,কারোর বা সামর্থ্যের অভাবে পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম বেশি,তবে নতুন তালিকায় যাদের নাম যোগ হয়েছে সেই ১২ জনের মধ্যে ৪ জন ছেলেকে ৪ জন মহৎ ব্যক্তি এককভাবে পড়াশুনার যাবতীয় দায়িত্ব নিবেন বলে নিশ্চিত করে জানিয়েছেন,

নতুন ও পুরাতন মিলে মোট ১২ জন গরীব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী এখনো নিশ্চিৎ নয় যে তারা আরও পড়াশুনা করার সুযোগ পাবে কিনা,তাদের ভবিষ্যত জীবন শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে নাকি অন্ধকার হয়ে যাবে সেটি আমার এখনো অজানা,হয়তো কারোর কাছে সাপোর্ট না পেলে অন্ধকার হয়েই যাবে সেটা নিশ্চিত।

তিন পার্বত্য জেলায়(রাঙ্গামাটি,খাগড়াছড়ি,বান্দরবান)প্রত্যন্ত এলাকাগুলো ঘুরাফেরা করলে দেখা ও শুনা যায় প্রতিবছর শত শত দরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী সামর্থ্যের অভাব-অনতনের কারনে তারা পড়াশুনা থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়, ফলে তাদের মেধাগুলোও বিকাশ করার সুযোগ তারা পায় না।

দূর্গম এলাকায় বসবাস করা গরীব-মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মূল সমস্যাটি হচ্ছে তারা যেখানে বসবাস করে সেখানে কাছাকাছি হাই স্কুল নেই,প্রাইমারি স্কুলের জীবন শেষ করে হাই স্কুলে ভর্তি হয়ে পড়াশুনা করতে হলে থাকতে হবে,ভাড়া বাড়িতে,না হয় অন্য মানুষের বাড়িতে,না হয় হোষ্টেলে,সেভাবে পড়াশুনা করানোর মত তাদের গরীব বাবা মায়ের থাকার কারনে তাদের পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যায়,যাদের সামর্থ্য আছে তারা তো তাদের ছেলেমেয়েদের নামি দামি স্কুলে পড়ায়,যাদের নেই তাদের শুধু হা করে চেয়ে থাকতে হয়।

তাছাড়া দুর্গম এলাকায় বসবাস করা মানুষেরা প্রায়ই তারা জুম চাষের উপর নির্ভরশীল হয়ে কোন রকম জীবন-ধারন করে চলে,জুম চাষ করে যা ফসল উৎপাদন হয় তা দিয়ে পেট চালানো ও কঠিন হয়ে যায়,তাহলে তারা হাজার হাজার টাকা খরচ করে তাদের ছেলেমেয়েদের বাইরে স্কুলে পড়াশুনা করাবে?তাছাড়া আগের তুলনা বর্তমানে তেমন জুমে ভাল ফসল ফলেনা,এই হলো অবস্থা।

যাই হোক যদি কেউ এই ১২ জন গরীব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উজ্জল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের সাপোর্ট দেয়ার আগ্রহ থাকে তাহলে আমার পাশে থাকতে পারেন,আমি জানি কারো কারো পক্ষে এককভাবে একজনের পড়াশুনার খরচ চালানোর এত কঠিন না হলেও কারো কারো পক্ষে সেটা বড়ই কঠিন,সামর্থ্য অনুসারে যদি ওদের জন্য কিছু অর্থ সাপোর্ট দিতে পারেন তাহলে আমি তাদের মোনঘর আবাসিক বিদ্যালয়ে নিয়ে এসে ভালভাবে পড়াশুনার ব্যবস্থা করার কাজ শুরু করে দিতে সর্বদা প্রস্তুত,গরীব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনা করার দায়িত্ব শুধু একজন বা ২ জনের নয় এটি সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য, কারন এরাই আমাদের ভবিষ্যত,হয়তো তারা যদি ঠিকমত পড়াশুনা করার সুযোগ পাই একদিন তারাই নতুন পথ দেখাবে তাদের ভবিষ্যত প্রজন্মদের,তাদের প্রয়োজন এখন শুধু একটি সুযোগ ও সাপোর্ট।

সময় খুব কম মোনঘর আবাসিক বিদ্যালয়ে ২০১৮ সালে ভর্তি ইচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি ফরম ছাড়া হয়েছে কয়েক দিন আগে থেকে,জানুয়ারি ৪ তারিখের মধ্যে যদি ভর্তির ফরন কিনে,ফরম পূরণ করে জমা দেয়া না হয় তাহলে এই অসহায় গরীব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কিচ্ছু করা যাবে না।

লেখকঃ মোনঘরের সুযোগ্য ছাত্র কৃষ্ণ এম চাকমা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত