শিরোনাম

  শহীদ আলফ্রেড সরেন হত্যার ১৮ বছর: হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জাতীয় আদিবাসী পরিষদের   ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা   সরকারী চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মারা গেছেন   ঈদের ছুটি কাটানো হলোনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নিরীহ ধীরাজ চাকমার   খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনার জন্য জেএসএস(সংস্কারবাদী) ও নব্য মুখোশ বাহিনীকে দায়ী করেছে : ইউপিডিএফ   নানিয়ারচর থেকে খাগড়াছড়ি   খাগড়াছড়িতে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা !   ভুটানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা   খাগড়াছড়িতে সেটেলার কর্তৃক পাহাড়ী নারীকে ধর্ষণ চেষ্ঠা   গুলো-গুলি || আলোময় চাকমা   বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা   মহালছড়িতে আবার ৩ গ্রামবাসীকে অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা   আজ খালেদা জিয়ার জন্মদিন!   বাঙালির শোকের দিন আজ   বঙ্গবন্ধুর শোক দিবসে ২১০টি গরু জবাই দিয়ে কাঙালি ভোজ আয়োজন !   পিসিপি ২৬ তম কাউন্সিল ও ছাত্র সম্মেলন সম্পন্ন , নিপন ত্রিপুরাকে সভাপতি ও অমর শান্তি চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক   পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন : অর্থনৈতিক না রাজনৈতিক সমস্যা ?   খাগড়াছড়িতে ৪ গ্রামবাসীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে   শান্তি চুক্তির পর পাহাড়ে যে উন্নয়ন হয়েছে তা টেলিটক থেকে মেসেজ করে আমরা পৌঁছে দেব : তারানা হালিম
প্রচ্ছদ / আর্টস / পাহাড়ে ফুটেছে বিজুফুল

পাহাড়ে ফুটেছে বিজুফুল

প্রকাশিত: ২০১৮-০৪-০২ ১০:০৩:২৩

   আপডেট: ২০১৮-০৪-২২ ০০:৪০:৫২

পাহাড়ে ফুটেছে বিজুফুল।

বর্ণা দেওয়ান , রাঙ্গামাটি

প্রতি বছরের ন্যায় এই বছর ও পালিত হচ্ছে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান উৎসব বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু ,বিষু ,বিহু ,সাংক্রান ইত্যাদি ।

বাংলাদেশের আদিবাসীদের প্রধান ঐতিহ্যবাহী উৎসব বৈসাবি সাধারণত তিন আদ্যাক্ষর নিয়ে সৃষ্টি। বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু(ত্রিপুরা,মারমা,চাকমা) ঐতিহ্যবাহী উৎসবের প্রধান অক্ষরগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে বৈসাবি শব্দটি উৎপত্তি হয় । যদিও এটি বিভিন্ন নামে প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতির নাম অনুসারে এখনো বিদ্যমান রয়েছে । বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু ,বিষু ,বিহু ,সাংক্রান ইত্যাদি ।

বৈসাবি’র আগাম বার্তা নিয়ে এ বছরও পাহাড়ে ফুটেছে ‘বিজু ফুল’। 'বিজুফুল'কে চাকমারা 'ভাতজোড়া' ফুল বলে অভিহিত করে থাকে। মারমারা বলে ‘চগাপেইং আর ত্রিপুরারা বলে ‘কুমুইবোবা’। তবে 'বিজুফুল' অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতির নাম অনুসারে এখনো বিদ্যমান রয়েছে ।

প্রতিবছর ভোরের আকাশে রক্তিম সূর্যের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ফুল বিজুর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

১২ এপ্রিল পালন করা হয় ফুলবিজু। এই দিন ভোরের আলো ফুটার আগেই ছেলেমেয়েরা বেরিয়ে পড়ে ফুল সংগ্রহের জন্য। সংগ্রহিত ফুলের একভাগ দিয়ে বুদ্ধকে পূজা করা হয় আর অন্যভাগ পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। বাকি ফুলগুলো দিয়ে ঘরবাড়ি সাজানো হয়। বাংলা বছরের শেষ দুই দিন ও নববর্ষের দিন এই উৎসব পালন করা হয়।

বন থেকে ফুল সংগ্রহ করে পুরাতন বছরে গ্লানি -দুঃখ ভুলে নতুন দিনের মঙ্গল কামনায় গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে বিজু ফুল নদীতে ভাসানো হয়। এছাড়াও মাধবীলতা, অলকানন্দা, নিম পাতা, রঙ্গন, জবাফুলসহ বাহারি ফুল কলাপাতায় করে নদীর জলে ভাসানো হয়।

বাড়িতে নানু,দাদুরা বলে থাকে বিজুর সময় বন থেকে পাহাড়ি ফুল সংগ্রহ করে নদীতে ভাসালে চিত্ত পরিশুদ্ধ ও মঙ্গল হয়। তবে পাহাড়ি ফুল ব্যতিত অন্যান্য ফুল ভাসালে তেমন ফুলবিজুর পরিপূর্নতা পায়না।

চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাত্‍ ১৩ এপ্রিল পালন করা হয় মুলবিজু। ছেলেমেয়েরা তাদের বৃদ্ধ দাদা-দাদী এবংনানা-নানীকে গোসল করায় এবং আশীর্বাদ নেয়। এই দিনে ঘরে ঘরে বিরানী সেমাই পাজন (বিভিন্ন রকমের সবজির মিশ্রণে তৈরি এক ধরনের তরকারী) সহ অনেক ধরনের সুস্বাদু খাবার রান্না করা হয়। বন্ধুবান্ধব আত্নীয়স্বজন বেড়াতে আসে ঘরে ঘরে এবং এসব খাবার দিয়ে তাদেরকে আপ্যায়ন করা হয়। সারাদিন রাত ধরে চলে ঘুরাঘুরি। বাংলা নববর্ষের ১ম দিন অর্থাত্‍ ১৪ এপ্রিল পালন করা হয় গজ্যা পজ্যা দিন (গড়িয়ে পড়ার দিন)। এই দিনেও বিজুর আমেজ থাকে।

ফুলবিজুর দিনে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী সাজ-পোশাক (থামি, পিনন, কবই, খাদি, খবং, ধুতি, ফতুয়া পরে) ফুল বিজুতে অংশ নেয় চাকমা,ত্রিপুরা,মারমা তরুণ-তরুনীরা।  

সাধারণত বছরের শেষ দুইদিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন বর্ষবরণ উৎসব 'বৈসাবি' পালিত হয় বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত