শিরোনাম

  ব্রাজিলকে রুখে দিল সুইজারল্যান্ড   জার্মানিকে হারিয়ে মেক্সিকোর জয়   রাঙ্গামাটিতে সুরেন বিকাশ চাকমা নামে একজনকে গুলি করে হত্যা   বাবা বিশ্বকাপ খেলা দেখার সুযোগে মারমা কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা   আজ মেক্সিকোর বিপক্ষে মাঠে নামবে জার্মানি   আমিই এক নম্বর দাবি করলেন : নেইমার   আমি সব ধর্মের মানুষকে সম্মান করি : মমতা   নিখোঁজ দুই দিন পর কাপ্তাই হ্রদে ভেসে উঠল পাহাড়ী মেয়ের লাশ   আফগানিস্তানে বোমা হামলায় নিহত ২৫   আজ বিশ্ব বাবা দিবস   নাইজেরিয়াকে হারিয়ে শুরু ক্রোয়েশিয়ার   পেনাল্টি মিসে ডেনমার্কের কাছে হারল পেরু   মেসির পেনাল্টি মিস, আর্জেন্টিনা-আইসল্যান্ড ১-১   খাগড়াছড়িতে বিজয় ত্রিপুরা নামে একজনকে গুলি করে হত্যা   ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে অস্ত্রেলিয়া   কাশ্মীরে লাদাখ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৌদ্ধ সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত   হ্যাটট্রিকে রোনালদোর রেকর্ড   আত্মঘাতী গোলে মরক্কোর পরাজয়   শেষ মুহূর্তে উরুগুয়ের কাছে হেরে গেল মিসর, উরুগুয়ে-১-মিশর-০   আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা
প্রচ্ছদ / আর্টস / পাহাড়ে ফুটেছে বিজুফুল

পাহাড়ে ফুটেছে বিজুফুল

প্রকাশিত: ২০১৮-০৪-০২ ১০:০৩:২৩

   আপডেট: ২০১৮-০৪-২২ ০০:৪০:৫২

পাহাড়ে ফুটেছে বিজুফুল।

বর্ণা দেওয়ান , রাঙ্গামাটি

প্রতি বছরের ন্যায় এই বছর ও পালিত হচ্ছে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান উৎসব বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু ,বিষু ,বিহু ,সাংক্রান ইত্যাদি ।

বাংলাদেশের আদিবাসীদের প্রধান ঐতিহ্যবাহী উৎসব বৈসাবি সাধারণত তিন আদ্যাক্ষর নিয়ে সৃষ্টি। বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু(ত্রিপুরা,মারমা,চাকমা) ঐতিহ্যবাহী উৎসবের প্রধান অক্ষরগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে বৈসাবি শব্দটি উৎপত্তি হয় । যদিও এটি বিভিন্ন নামে প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতির নাম অনুসারে এখনো বিদ্যমান রয়েছে । বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু ,বিষু ,বিহু ,সাংক্রান ইত্যাদি ।

বৈসাবি’র আগাম বার্তা নিয়ে এ বছরও পাহাড়ে ফুটেছে ‘বিজু ফুল’। 'বিজুফুল'কে চাকমারা 'ভাতজোড়া' ফুল বলে অভিহিত করে থাকে। মারমারা বলে ‘চগাপেইং আর ত্রিপুরারা বলে ‘কুমুইবোবা’। তবে 'বিজুফুল' অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতির নাম অনুসারে এখনো বিদ্যমান রয়েছে ।

প্রতিবছর ভোরের আকাশে রক্তিম সূর্যের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ফুল বিজুর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

১২ এপ্রিল পালন করা হয় ফুলবিজু। এই দিন ভোরের আলো ফুটার আগেই ছেলেমেয়েরা বেরিয়ে পড়ে ফুল সংগ্রহের জন্য। সংগ্রহিত ফুলের একভাগ দিয়ে বুদ্ধকে পূজা করা হয় আর অন্যভাগ পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। বাকি ফুলগুলো দিয়ে ঘরবাড়ি সাজানো হয়। বাংলা বছরের শেষ দুই দিন ও নববর্ষের দিন এই উৎসব পালন করা হয়।

বন থেকে ফুল সংগ্রহ করে পুরাতন বছরে গ্লানি -দুঃখ ভুলে নতুন দিনের মঙ্গল কামনায় গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে বিজু ফুল নদীতে ভাসানো হয়। এছাড়াও মাধবীলতা, অলকানন্দা, নিম পাতা, রঙ্গন, জবাফুলসহ বাহারি ফুল কলাপাতায় করে নদীর জলে ভাসানো হয়।

বাড়িতে নানু,দাদুরা বলে থাকে বিজুর সময় বন থেকে পাহাড়ি ফুল সংগ্রহ করে নদীতে ভাসালে চিত্ত পরিশুদ্ধ ও মঙ্গল হয়। তবে পাহাড়ি ফুল ব্যতিত অন্যান্য ফুল ভাসালে তেমন ফুলবিজুর পরিপূর্নতা পায়না।

চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাত্‍ ১৩ এপ্রিল পালন করা হয় মুলবিজু। ছেলেমেয়েরা তাদের বৃদ্ধ দাদা-দাদী এবংনানা-নানীকে গোসল করায় এবং আশীর্বাদ নেয়। এই দিনে ঘরে ঘরে বিরানী সেমাই পাজন (বিভিন্ন রকমের সবজির মিশ্রণে তৈরি এক ধরনের তরকারী) সহ অনেক ধরনের সুস্বাদু খাবার রান্না করা হয়। বন্ধুবান্ধব আত্নীয়স্বজন বেড়াতে আসে ঘরে ঘরে এবং এসব খাবার দিয়ে তাদেরকে আপ্যায়ন করা হয়। সারাদিন রাত ধরে চলে ঘুরাঘুরি। বাংলা নববর্ষের ১ম দিন অর্থাত্‍ ১৪ এপ্রিল পালন করা হয় গজ্যা পজ্যা দিন (গড়িয়ে পড়ার দিন)। এই দিনেও বিজুর আমেজ থাকে।

ফুলবিজুর দিনে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী সাজ-পোশাক (থামি, পিনন, কবই, খাদি, খবং, ধুতি, ফতুয়া পরে) ফুল বিজুতে অংশ নেয় চাকমা,ত্রিপুরা,মারমা তরুণ-তরুনীরা।  

সাধারণত বছরের শেষ দুইদিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন বর্ষবরণ উৎসব 'বৈসাবি' পালিত হয় বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত