শিরোনাম

  ভিয়েতনামে বন্যায় ২০ জনের মৃত্যু , ১ লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট   দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা   ছাত্রলীগকে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেছেন: কাদের   থানকুনি পাতার জাদুকরি উপকারিতা   চট্টগ্রাম কর্ণফুলীতে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, গ্রেফতার ৩   পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম : প্রধানমন্ত্রী   চিকিৎসা খাতে নতুন আবিষ্কার রঙিন ও থ্রি-ডি এক্স-রে   গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেঁদেছেন প্রধানমন্ত্রী   না ফেরার দেশে রাজীব মীর   নানিয়াচর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রীতিময় চাকমাকে অপহরণ   ছেলেদের চেয়ে এবারও এগিয়ে মেয়েরা   চট্টগ্রাম বোর্ডের পাশের হার ৬২.৭৩ %   যারা ফেল করেছে তাদের বকাঝকা করবেন না : প্রধানমন্ত্রী   এইচএসসি তে পাসের ধস নেমেছে এবার   এইচএসসি ও সমমানে পাসের হার এবার ৬৬.৬৪   হাসপাতাল ছাড়ার পর এবার থাই কিশোররা সবাই শ্রামণ হয়ে প্রবজ্যা গ্রহণ করবে   থাইল্যান্ডের গুহায় আটকা পড়া কিশোররা হাসপাতাল ছেড়েছে   ৮ দল নিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের আত্মপ্রকাশ   আগামীকাল এইচএসসির ফল প্রকাশ হবে   নেলসন ম্যান্ডেলার জন্ম শতবার্ষিকী আজ
প্রচ্ছদ / জাতীয় / চাকমা আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক

চাকমা আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক

প্রকাশিত: ২০১৭-১১-১৪ ২০:০১:৫২

   আপডেট: ২০১৭-১২-২২ ২১:১৫:৪০

অনলাইন ডেস্ক

চাকমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, লোক সাহিত্য, সাহিত্য ও ঐতিহ্য রয়েছে ।দেশের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে চাকমা মেয়েদের পরিধেয় পোশাক দুটি অংশে বিভক্ত। একটি ‘পিনন’ এবং অপরটি ‘খাদি’। শরীরের নিম্নাংশের পোশাককে বলে পিনন। যা দেখতে অনেকটা সেলাইবিহীন লুঙ্গির মতো। এটি সূক্ষ্ম সুতো ও কমর তাঁত দিয়ে তৈরি হয় এই পোশাক।

এ পোশাকের বামদিকের নকশা সমৃদ্ধ অংশকে বলে ‘চাবুকি’। অন্যদিকে, শরীরের ওপরের অংশের বক্ষবন্ধনী পোশাকটি খাদি নামে পরিচিত। এ খাদি আবার দু-ধরনের ‘রাঙ্গাখাদি’ ও ‘চিবিকটানা খাদি’। রাঙ্গাখাদিতে বিভিন্নরকমের নকশা ও বৈচিত্র্যময় ডিজাইন থাকলেও চিবিকটানা খাদিতে কোনো নকশা থাকে না। বিঝু এবং বিয়ের উৎসবেও ঐতিহ্যবাহী এই পিনন ও রাঙ্গাখাদি পরা হয়। এর সাথে থাকে বিভিন্ন গহনা, যা সাধারণত রূপার হয়ে থাকে। তবে অন্যান্য সময় মেয়েরা স্বর্ণালঙ্কারই বেশি পরে থাকে। গয়নাগুলো হাজুলি, পয়জে মালা, হারু, টেঙয়ত হারু প্রভৃতি স্থানীয় নামে পরিচিত।

চাকমা ছেলেদের পোশাকে তেমন কোনো বৈচিত্র্যতা নেই। ছেলেরা নিজস্ব বুননের শার্ট, ধুতি, ফতুয়া, লুঙ্গি, পাঞ্জাবি পরে। আর বিয়ের সময় মাথায় এক ধরনের কাপড় পেঁচিয়ে রাখে। চাকমা ভাষায় যা ‘হবং’ নামে পরিচিত। তবে বর্তমানে বিয়ের অনুষ্ঠানে আধুনিক পোশাক হিসেবে অনেকেই প্যান্ট, স্যুট, টাইও পরে।

চাকমাদের সবচেয়ে বড় জাতিগত উৎসব বিজু। বাংলা বছরের শেষ দুদিন ও নতুন বছরের প্রথম দিন এ উৎসব পালন করা হয়। বাংলা বছরের শেষ দিনের আগের দিনকে বলা হয় ফুল বিজু এবং শেষ দিনকে বলা হয় চৈত্র সংক্রান্তি বা মূল বিজু। ফুল বিজুর দিন সকাল বেলা চাকমারা ঘর-বাড়ি পরিষ্কার করে ফুল দিয়ে সাজায়, বুড়ো-বুড়িদের গোসল করায়, নতুন কাপড় দেয়।

রাতে বসে পরের দিনের পাচন তরকারি রান্নার জন্য সব্জি কাটতে বসে যা কমপক্ষে ৫টি এবং বেশি হলে ৩২ রকম সব্জির মিশেলে রান্না করা হয়। পরের দিন মূল বিজু, এদিন চাকমা তরুণ-তরুণীরা খুব ভোরে উঠে কলা পাতায় করে কিছু ফুল পানিতে ভাসিয়ে দেন। তারপর সবাই বিশেষ করে ছোটোরা নতুন জামা-কাপড় পরে বাড়ি বাড়ি ঘুরতে থাকে। তবে গ্রাম গুলোতে প্রাচীনকালের মতোন করে "ঘিলে হারা" (খেলা) হয়। পরের দিন নতুন বছর বা গয্যে পয্যে, নতুন বছরের দিন সবাই মন্দিরে যায়, খাবার দান করে, ভালো কাজ করে, বৃদ্ধদের কাছ থেকে আশীষ নেয়।

চাকমা লোকসাহিত্য বেশ সমৃদ্ধশালী। তাদের লোক কাহিনীকে বলা হয় ''উবগীদ'' । চাকমাদের তাল্লিক শাস্ত্র বা চিকিৎসা শাস্ত্র অনেক সমৃদ্ধ। আর বয়ন শিল্পে চাকমা রমণীদের সুখ্যাতি জগৎ জুড়ে।

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরো খবর



আলোচিত