আজ শনিবার, | ২১ অক্টোবর ২০১৭ ইং

শিরোনাম

  কুমিল্লায় বিশ্ব শান্তি প্যাগোডা উদ্বোধন   আগামীকাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু   নিজ নিজ মাতৃভাষা শেখার আহ্বান জানালেন \'উন্দুচ্যে বৈদ্য\'   বান্দরবানে জনসংহতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ক্যবামং মারমা পুনরায় উপজেলা চেয়ারম্যানে দায়িত্ব নিলেন   রোহিঙ্গাদের সংক্রামক রোগ পার্বত্য চট্টগ্রামে ছড়িয়ে পড়তে পারে || বিশেষজ্ঞদের কড়া সতর্ক   বৃষ্টি হতে পারে সারাদেশে, তিন নম্বর সংকেত দেখিয়ে যাওয়ার বুলেটিন   শিক্ষক এবং শিক্ষকতা || মুহম্মদ জাফর ইকবাল   ঢাবি ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু   মিয়ানমারের বিলাসবহুল হোটেল অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই   যারা সন্ত্রাসের সাথে জড়িত তাদের ধর্ম পরিচয় আর থাকেনাঃ দলাই লামা   বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শীত যেখানে   মন্ট্রিয়লে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় চ্যারেটি ফান্ড ‘রেইজিং গালা’   বাঁশ কোড়ল আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী প্রিয় খাবার   ঢাবির \'ক\' ও \'চ\' ইউনিটের ফল প্রকাশ   দেশে ফিরেছেন খালেদা জিয়া   শ্যামা পূজা বৃহস্পতিবার   মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় চীনে আদিবাসীদের থামি পড়ে অংশগ্রহণ করবেন জেসিয়া ইসলাম   সন্ত্রাসীদের ধরতে শীঘ্রই তিন পার্বত্য জেলায় র‍্যাবের নতুন ইউনিট যাচ্ছে   পূর্ণ্য তীর্থ পূর্ব বিনাজুরী গ্রামের নিয়তি রানী বড়ুয়া চলে গেলেন না ফেরার দেশে   বেরোবির প্রভাষক পদে মাহমুদুলকে নিয়োগ দিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ

সংস্কৃতি উৎসবে দর্শক মাতালো মণিপুরি নৃত্য

প্রকাশিত: ২০১৭-০২-২৩ ১৪:০৯:০৩

ডেইলি সিএইচটি ডেস্ক

জলের গানের পরিবেশনার মাধ্যমে শেষ মানবিক সাধনায় বেঙ্গল সাংস্কৃতিক উৎসবের প্রথম দিন। রাত সাড়ে ১১ টায় শেষ হয় প্রথমদিনের আয়োজন। 

তখন কয়েক হাজার দর্শক উপস্থিত আবুল মাল আবদুল মুহিত কমপ্লেক্সে। কারো যেনো বাড়ি যাওয়ার তাড়া নেই। দর্শকসারি থেকে আরো গানের অনুরোধ। আরো কিছুক্ষণ না চলার আক্ষেপ নিয়েই শেষ হয় প্রথম দিনের অনুষ্ঠান। এবার পরেরদিনের (বৃহস্পতিবার) অপেক্ষা।


রাত ১০টায় মঞ্চে উঠে জলের গান একে একে পরিবেশন করে তাদের জনপ্রিয় গানগুলো। সোয়া যাও, বকুল ফুল, ফুল চাষী, এমন যদি হতো, ঝড়া পাতা, বর্ণামালা, পাগলের ভালোবাসা গানগুলো পরিবেশন করে জলের গান।

এরআগে বিকেল ৪ টায় সিলেটে পর্দা উঠে মানবিক সাধনায় বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসবের। দশ দিনব্যাপী এ উৎসবের প্রথম দিনেই ছিল সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মণিপুরী নৃত্যের প্রদর্শনী।

বুধবার নগরের মাছিমপুর এলাকার আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে বেলা চারটায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে এ উৎসব শুরু হয়। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল রাত আটটায়। গান-নৃত্য-কথা আর হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে উৎসব জমে উঠে প্রথম দিনই।

আটটায় উদ্বোধনী পর্বের অনুষ্ঠান শুরু হয় হাসন রাজা মঞ্চে। এ সময় উদ্বোধকের বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ইনডেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিয়া তাজীন ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। সূচনা বক্তব্য দেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের। 

ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি (প্রাক্তন) ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ড. এ কে মোমেন।

উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাককে। ইনডেক্স গ্রুপ নিবেদিত এ উৎসবের আয়োজক বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। সহযোগিতায় রয়েছে ঢাকা ব্যাংক। প্রতিদিনই কয়েকটি মঞ্চে এ অনুষ্ঠান হবে। মূল অনুষ্ঠান হবে সৈয়দ মুজতবা আলী এবং হাসন রাজা মঞ্চে। এ ছাড়া প্রথম দিন থেকেই শাহ আবদুল করিম চত্বরে বাদ্যযন্ত্র ও সিলেট অঞ্চলের লোকগানের ইতিহাস নিয়ে প্রদর্শনী; গুরুসদয় দত্ত চত্বরে কারুমেলা ও বেঙ্গল প্যাভিলিয়ন এবং কুশিয়ারা কলোনেডে স্থাপত্য প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। রাধারমণ দত্ত বেদিতে অনুষ্ঠিত হবে সুবীর চৌধুরী আর্ট ক্যাম্প।

উদ্বোধকের বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘আমরা যাতে প্রকৃত মানুষ হিসাবে বাঁচতে পারি, এজন্য রুচির বিকাশের প্রয়োজন আছে। খাওয়াপরা জীবনে একমাত্র উদ্দেশ্য নয়, সেটা জীবনকে সফল করে না। জীবনকে সফল করার জন্য বিনোদনের প্রয়োজন আছে, রুচির প্রয়োজন আছে। সেই কাজ করছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন।’

বক্তৃতায় আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘সংস্কৃতিচর্চাকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশকে আমরা দানবের দেশ হিসেবে দেখতে চাই না, চাই মানবের দেশ হিসেবে দেখতে।’ আবুল খায়ের বক্তৃতায় বলেন, ‘সংস্কৃতিচর্চা ও খেলাধূলা পারে তরুণ সমাজকে বিপথ থেকে ফিরিয়ে আনতে। তাই এ দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আগামী দশ বছরে সারা দেশে দুইহাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করতে পারলে দেশ থেকে সব ধরনের নৈরাজ্য দূর করা সম্ভব।’ 

উদ্বোধনী পর্বের আগে বেলা চারটায় সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে ‘বর্ণ টুগেদার’, ‘টেলিভিশন’ ও ‘গেরিলা’ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। সন্ধ্যা ছয়টা ২০ মিনিটে হাসন রাজা মঞ্চে মণিপুরি নাচ পরিবেশন করেন বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পী ওয়ার্দা রিহাব ও তাঁর দল। একইমঞ্চে এরপর দেশের গান পরিবেশন করে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ সিলেটের শিল্পীরা। উদ্বোধনী পর্বের পর রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন প্রখ্যাত শিল্পী অদিতি মহসিন। সবেশেষে ছিল ফিউশন ফোক জলের গানের পরিবেশনা।

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার, প্রথিতযশা মঞ্চ-অভিনেতা ও নির্দেশক শাঁওলি মিত্রসহ ভারতের ২৩ জন প্রাবন্ধিক, কবি ও সাহিত্যিক এবং নেপালের ২ জন বিশিষ্ট লেখক সাহিত্যসভায় যোগ দেবেন। উৎসবে বাংলাদেশের ১০টি জেলার কারুশিল্প নিয়ে রয়েছে কারুমেলা। চলচ্চিত্র উৎসবে জাহিদুর রহিম অঞ্জনের ‘মেঘমল্লার’, মোরশেদুল ইসলামের ‘অনিল বাগচীর একদিন’, তারেক মাসুদের ‘রানওয়ে’, ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, রুবাইয়াৎ হোসেনের ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’ ও ছোটদের ছবিসহ মোট ১৪টি ছায়াছবি নিয়মিতভাবে প্রদর্শিত হবে।

চারটি নন্দিত মঞ্চনাটক সুবচনের ‘মহাজনের নাও’, থিয়েটার আর্ট ইউনিটের ‘আমেনা সুন্দরী’, লোকনাট্যদলের ‘কঞ্জুস’ এবং মণিপুরী থিয়েটারের ‘কহে বীরাঙ্গনা’ উৎসবে মঞ্চস্থ হবে। উৎসব প্রাঙ্গণে উপস্থাপিত হচ্ছে বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ মিষ্টান্ন ও ঐতিহ্যবাহী খাবার। রয়েছে বইমেলা। সিলেট জেলার ঐতিহ্যবাহী ঝুমুর, ধামাইল, সুফি ও সাধনসংগীত, চা জনগোষ্ঠি, মণিপুরী ইত্যাদি আঞ্চলিক গান ও নাচ উৎসবের বিভিন্ন দিন মঞ্চে উপস্থাপন করা হবে। সিলেটের ঐতিহ্য ও উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে থাকবে স্থিরচিত্র প্রক্ষেপণ (ডিজিটাল ডিসপ্লে)। সিলেট শহরকে আরো পরিবেশ ও মানববান্ধব করার বিভিন্ন প্রয়াস ও চিন্তা সমন্বয় করে উপস্থাপন করা হবে স্থাপত্যবিষয়ক প্রদর্শনী।

-সিলেট টুডে২৪ডটকম

আপনার মন্তব্য

আলোচিত