আজ বৃহস্পতিবার, | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং

শিরোনাম

  এবার আয়ারল্যান্ড থেকে সু চির \'ফ্রিডম অব ডাবলিন সিটি’ পুরস্কার প্রত্যাহার   শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ   রোহিঙ্গাদের জন্য ১৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিবে যুক্তরাষ্ট্র   ২০ হাজার ভিক্ষু নিয়ে মান্দালয়ে অনুষ্ঠিত হবে থাইল্যান্ড এবং মিয়ানমারের মহাদান অনুষ্ঠান   মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিক আটক, দোষী সাব্যস্ত হলে ১৪ বছর কারাদন্ড হতে পারে   ত্রিপুরা রাজ্যে মায়েদের সন্তান পালনের জন্য ছুটি দুই বছর   প্যারিসে শীর্ষক গণশুনানি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ   আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ কনফেডারেশন মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হলেন ত্রিপুরা বৌদ্ধ ভিক্ষু   জালালাবাদ এসোসিয়েশন অফ টরোন্টোর ট্রাস্টী এবং উপদেষ্টামণ্ডলীর পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত   ত্রাণের উপর ঘুমাচ্ছে রোহিঙ্গারা , শীতে কেমন আসে লংগদুর পাহাড়িরা?   পার্বত্য এলাকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষার প্রাথমিক দায়িত্ব আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদের ওপর ন্যস্ত করার সুপারিশ   হামলার অভিযোগে আটককৃত ব্যক্তিরা রাঙ্গাপানি ও ভেদভেদী এলাকার অটোরিক্সা চালক, ছাত্র ও দিনমজুর   তিব্বতীয় মুসলমানরা দালাই লামাকে এখনো নেতা হিসেবে মনে করে   রাঙ্গামাটিতে ৬৯ গ্রামবাসী ও জেএসএস সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, নিরীহ ১৯ জনকে গ্রেফতার, ১২ জনকে হয়রানির অভিযোগ   নিউইয়র্কে হামলাকারী সন্দেহভাজন ব্যক্তি চট্টগ্রাম থেকে, পরিবার আতঙ্কিত   বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ ভাষণের বিশ্ব স্বীকৃতিতে কানাডার অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের আনন্দ শোভাযাত্রা   পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যানের মেয়াদ তিন বছর বাড়ল   রাঙ্গামাটিতে ২০০ অধিক পাহাড়ি আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ   রাখাইন রাজ্যে সহিংস ঘটনায় \'আরাকান আর্মির\' হাত নেই - আরাকান আর্মির\' প্রধান   রাঙামাটি কাঠ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি. এর নির্বাচিতদের অভিনন্দন জানালেন

কানাডার সিনেটে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসিত

প্রকাশিত: ২০১৭-১০-০৭ ০৮:৪০:৪৬

সদেরা সুজন, সিবিএনএ কানাডা থেকে

মিয়ানমার কর্তৃক সেদেশের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর পরিচালিত হত্যাযজ্ঞ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে এক বিস্তারিত শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে কানাডার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে। অটোয়ার পার্লামেন্ট হিলের সিনেট মানবাধিকার বিষয়ক কমিটিতে এ শুনানী অনুষ্ঠিত হয়  ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ (বুধবার)৷ শুনানীকালে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার উচ্চ প্রসংশা করা হয়৷ সেই সাথে অবিলম্বে সহিংসতা ও হত্যাকান্ড বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকার, সেনাবাহিনী ও দেশটির নেত্রী অং সান সু চি'র প্রতি কানাডার চাপ প্রয়োগের বিষয়টি জোরালোভাবে আলোচিত হয়৷

শুনানীকালে সিনেট মানবাধিকার কমিটির বিশেষ আম্ন্ত্রনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মিজানুর রহমান৷ তিনি মিযানমার কর্তৃক জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানের কথা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন৷ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রধানমন্তী কর্তৃক ঊথ্থাপিত পাঁচ দফা প্রস্তাবের কথা পুনর্ব্যক্ত করে হাই কমিশনার বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাব অনুসারে কোফি আনান কমিশনের সুপারিশের আলোকে মিয়ানমারকে তাদের নিজেদের সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং সংঘাত ও হত্যাকান্ড বন্ধ করে তাদের নাগরিক রোহিঙ্গাদেরকে স্থায়ীভাবে তাদের দেশ তথা মিয়ানমারে ফেরত নিতে হবে৷" এ সময় হাই কমিশনের মিনিস্টার নাঈম উদ্দিন আহমেদ এবং প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) দেওয়ান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন৷ প্রশ্নোত্তর পর্বে মিনিস্টার নাঈম আহমেদ বলেন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবার বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের অবশ্যই বাংলাদেশ সরকারের সাথে প্রয়োনীয় সহযোগিতা করা বাঞ্ছনীয় এবং তাদরকে এ বিষয়ে বালাদেশের সাথে 'এঙ্গেইজ্ড' থাকতে হবে৷

পরে হাই কমিশনারের বক্তব্যের লিখিত কপি সিনেট হিউম্যান রাইটস কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাঝে বিতরণ করা হয়৷ পুরো শুনানী কানাডার সরকারী  পার্লামেন্টভিউ টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়৷ শুনানীতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি, সিনেটর জিম মানসন৷ সভায় উপস্থিত থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন কমিটির ডেপুটি চেয়ার সিনেটর সালমা আতাউল্লাহজান, সিনেটর মারিলু ম্যাকফ্রেডান, সিনেটর ইয়োনাহ মার্টিন, সিনেটর থান হাই গো, সিনেটর রেইনেল এ্যান্ড্রিচুক এবং সিনেটর রাতনা ওমিডভার৷

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গ্রুপগুলোর মধ্যে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, 'বার্মীজ মুসলিমস' এবং রোহিঙ্গা এ্যাসোসিয়েশন অব কানাডার নেতৃবৃন্দ শুনানীতে সাক্ষ্য প্রদান করেন ৷ 'বার্মীজ মুসলিমস অব কানাডা' এর নেতা আহমেদ রামাদান রাখাইনে বর্মী সেনাবাহিনী ও তাদের মদদপুষ্ট মিলিশিযাদের রোহিঙ্গা নিধনকে গণহত্যা বলে অভিহিত করে বলেন, "এটি কেবল জাতিগত নির্মুল নয়, এক ভয়ঙ্কর গণহত্যা, যা বন্ধ করতে কেবল নিন্দা জ্ঞাপন নয়, বরং কানাডাসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী৷"

রোহিঙ্গা এ্যাসোসিয়েশন অব কানাডার প্রেসিডেন্ট আনোয়ার আরকানী রোহিঙ্গাদের উপর বর্মী নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর নিষ্ঠুরতা ও হত্যাযজ্ঞের বিশদ ও মর্মস্পর্শী বিবরণ তুলে ধরেন, যা শুনানীতে উপস্থিত সকলকে শিহরিত করে৷ তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দানের জন্য সমস্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন৷

সিনেটের মানবাধিকার সংক্রান্ত সর্বশেষ শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে ২ অক্টোবর৷ উক্ত শুনানীতে কানাডার পররাষ্ট্র দপ্তরের (গ্লোবাল এ্যাফেয়ার্স, কানাডা) এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক সহকারী উপমন্ত্রী ডন বোবিয়াশ ও মিয়ানমার ডেস্কের উর্ধতন কর্মকর্তাদের শুনানীতে ডেকে কানাডা সরকারের করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য শুনে সিনেট মানবাধিকার কমিটি৷

রোহিঙ্গাদের উপর চালিত গণহত্যা ও ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত এসকল শুনানীর পর খুব শীঘ্রই সিনেট মানবাধিকার কমিটি তার সিদ্ধান্ত কানাডা সরকারকে জানাবে ৷

আপনার মন্তব্য

এ বিভাগের আরো খবর




আলোচিত